মর্গে তিল ধারণের জায়গা নেই! নেপালে গণহারে মৃতদেহ সমাধিস্থ করার সিদ্ধান্ত, পরিচয় মিলবে কীভাবে?

ভয়াবহ বন্যা ও প্রলয়ঙ্করী হড়পা বানের কবলে পড়ে বিপর্যস্ত নেপাল। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে মর্গে স্থান সংকুলান না হওয়ায় এবং মৃতদেহে পচন ধরায় পরিচয়হীন মৃতদেহগুলিকে এবার গণহারে সমাধিস্থ করা শুরু করেছে নেপাল সরকার। তবে পরবর্তীকালে পরিবারের সদস্যরা যাতে প্রিয়জনদের খুঁজে পেতে পারেন, তার জন্য ডিএনএ স্যাম্পল, ছবি এবং যাবতীয় ফরেন্সিক তথ্য সংরক্ষণ করার বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া ৭৬৮টি মরদেহের মধ্যে মাত্র ২০টি দেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। রবিবার পর্যন্ত ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩৪। নেপালের আটটি জেলা থেকে উদ্ধার হওয়া এই মৃতদেহগুলির মধ্যে সবথেকে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে চিতওয়ানে, যেখান থেকেই উদ্ধার হয়েছে ২৫৯টি মৃতদেহ। এছাড়া নওয়ালপরাসি ইস্টে ১৮৪, নওয়ালপরাসি ওয়েস্টে ৮২, গোরখায় ৫৮, নুওয়াকোটে ৫২, ধাদিংয়ে ৫০, তানাহুনে ৩৬ এবং রাসুয়ায় ১৩টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ২,৫০০ জন।

মৃতদেহের সংখ্যা মাত্রাতিরিক্ত হওয়ায় এবং তীব্র গরমে দেহগুলিতে পচন ধরতে শুরু করায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা ছিল বড় ধরনের সংক্রমণের। এই মহামারী এড়াতেই চিতওয়ান জেলা নিরাপত্তা কমিটির তরফে ভারতপুর মেট্রোপলিটন সিটির দেবঘাটে খোলা জায়গায় গণহারে মৃতদেহগুলি দাফন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নেপালের ‘Unidentified and Unclaimed Bodies Management’ কমিটির নির্দেশেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, পরে পরিবারের কেউ খোঁজ করলে যাতে দেহ শনাক্ত করা যায়, সেই উদ্দেশ্যে প্রতিটি মরদেহের ডিএনএ নমুনা, ছবি, পরিধেয় পোশাক, গয়না এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট একটি নির্দিষ্ট রেফারেন্স নম্বরের অধীনে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এমনকি নেপাল পুলিশের অনলাইন ডেটাবেস এবং কিউআর কোড (QR Code) স্ক্যান করেও নিখোঁজদের তথ্য জানার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মৃতদের পরিচয় সুনিশ্চিত করতে ময়দানে নেমেছে সাতজন ফরেনসিক প্যাথলজিস্ট ও সাতজন ডেন্টাল সার্জন সহ মোট ৪০ সদস্যের একটি বিশেষ মেডিকেল দল।