ভারতের খনিজ মানচিত্রে এক নতুন ও উজ্জ্বল অধ্যায়ের সূচনা হলো। ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলায় সন্ধান মিলেছে এক বিশাল সোনার খনির। প্রাথমিক সমীক্ষা অনুযায়ী, সেখানে প্রায় দেড় হাজার কেজি সোনার ভাণ্ডার রয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ওড়িশা বিধানসভায় এই চাঞ্চল্যকর ও উৎসাহব্যঞ্জক খবরটি শোনালেন রাজ্যের ইস্পাত ও খনি মন্ত্রী। মন্ত্রীর এই ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই খুশির হাওয়া ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্যের প্রশাসনিক ও সাধারণ মহলে।
দীর্ঘদিন ধরেই ময়ূরভঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ভূতাত্ত্বিক জরিপ বা জিওলজিক্যাল সার্ভে চালানো হচ্ছিল। খনি মন্ত্রক জানিয়েছে, জেলার তিনটি নির্দিষ্ট ব্লকে সোনার আকরিকের উচ্চ ঘনত্বের প্রমাণ মিলেছে। এই খনি থেকে সোনা উত্তোলন শুরু হলে কেবল ওড়িশা নয়, সামগ্রিকভাবে ভারতের অর্থনীতিতে এক বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমানে ভারত তার প্রয়োজনের সিংহভাগ সোনা বিদেশ থেকে আমদানি করে, সেক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ এই উৎস দেশের বাণিজ্যিক ঘাটতি কমাতে সহায়ক হবে।
তবে এই বিপুল পরিমাণ সোনা উত্তোলনের প্রক্রিয়া শুরু করতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে জানানো হয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে এই প্রকল্পের রূপরেখা তৈরি করবে। খনির আশেপাশে থাকা পরিবেশ এবং স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার কথা মাথায় রেখেই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে খনন কার্য চালানো হবে। ময়ূরভঞ্জের এই ‘সোনার ভাণ্ডার’ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।