মমতা-শুভেন্দুর লড়াইয়ের মাঝে তৃতীয় শক্তি? আদিবাসী আবেগকে সঙ্গী করে বঙ্গে বড় বাজিমাত কংগ্রেসের!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে কংগ্রেস। গত দুই দশক ধরে কখনও বাম, কখনও অন্য দলের সঙ্গে জোট করে লড়াই করলেও, এবার সম্পূর্ণ ‘একলা চলো’ নীতি গ্রহণ করেছে বিধান ভবন। আর এই লড়াইয়ে মল্লিকার্জুন খাড়গে ও রাহুল গান্ধীর দলের তুরুপের তাস—আদিবাসী সমাজ। “ভাতা নয়, অধিকার চাই”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে জঙ্গলমহল থেকে উত্তরবঙ্গ, আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বুথে বুথে কমিটি গড়তে শুরু করেছে কংগ্রেস।

আদিবাসী ভোটব্যাঙ্ক ও কংগ্রেসের কৌশল: বাংলার প্রায় ৫০-এর বেশি আসনে আদিবাসী ভোট নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে। কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূল বা বিজেপি—উভয় দলই আদিবাসীদের কেবল ‘ভাতা’ বা ‘অনুদান’ দিয়ে ভুলিয়ে রাখতে চায়। কিন্তু তাঁদের পাট্টা, জল-জঙ্গল-জমিনের প্রকৃত অধিকার এবং নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। কংগ্রেসের লক্ষ্য, আদিবাসীদের এই দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভকে ভোটবাক্সে রূপান্তর করা। এই উদ্দেশ্যে প্রতিটি বুথে ৫-১০ জনের একটি স্থানীয় কমিটি তৈরি করা হচ্ছে, যারা সরাসরি মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনবে।

২০ বছর পর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত: ২০০৬ সালের পর থেকে বাংলায় কংগ্রেস কোনো না কোনো জোটের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু এতে দলের সাংগঠনিক শক্তি ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু হয়েছে বলে মনে করছেন হাইকম্যান্ড। এবার একলা লড়ার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দল নিজের হারানো জমি ফিরে পেতে মরিয়া। বিশেষ করে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম এবং উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে আদিবাসী সমাজকে কংগ্রেসের চিরাচরিত ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ফিরিয়ে আনাই এখন মূল লক্ষ্য।

তৃণমূল-বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেসের এই সক্রিয়তা শাসক দল তৃণমূল এবং প্রধান বিরোধী দল বিজেপি—উভয় শিবিরের জন্যই চিন্তার কারণ হতে পারে। একদিকে আদিবাসী ভোট ভাগ হলে তৃণমূলের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের ম্যাজিক ফিকে হতে পারে, অন্যদিকে বিজেপির হিন্দুত্ববাদী মেরুকরণেও ফাটল ধরাতে পারে কংগ্রেসের ‘অধিকার’ রক্ষার লড়াই।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy