তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের ওপর হামলার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট বাসভবনের অদূরে কুণালকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দুই অভিযুক্ত চন্দন কয়াল ও রবি কয়ালকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় রাজ্যের হাই-সিকিউরিটি জোনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার সন্ধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে বেরিয়ে কুণাল ঘোষ যখন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই দুষ্কৃতীরা তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ে। ডিম তাঁর মাথায় ও পিঠে লাগে। এই ঘটনার পর কুণাল ঘোষ তাৎক্ষণিকভাবে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে একে ‘অসভ্যতা’ ও ‘বাঁদরামি’ বলে অভিহিত করেন। জেড-প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তায় থাকা এলাকার ঠিক বাইরে এমন ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। সোমবার রাতেই তিনি কালীঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
মঙ্গলবার সকালে কুণাল নিজের ফেসবুক পোস্টে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। তিনি লেখেন, “মিডিয়ার অনুরোধে নিরস্ত্র অবস্থায় একা দাঁড়িয়েছিলাম। ক্যামেরার দিকে তাকানোর সুযোগে ডিম ছুড়ে পালিয়েছে দুষ্কৃতীরা। পুলিশ তখন কার্যত দর্শকের ভূমিকায় ছিল। তবে আমি ভীত নই, রাতে একাই থানায় গিয়ে অভিযোগ জানিয়েছি।” রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরোধিতার নামে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা নোংরা রাজনীতিকে যে তিনি কখনোই সমর্থন করেন না, তা এদিন আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিধায়ক। তিনি বলেন, “বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই চলবে, কিন্তু গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রশ্নে আমি কোনো আপস করব না।”
এই ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে কুণাল ঘোষের একটি বিস্ফোরক দাবিকে ঘিরে। তিনি অভিযোগ করেছেন, ধৃত অভিযুক্তদের মধ্যে একজন অতীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে সিআইডি অভিযানের সময় পুলিশের সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং সিজার লিস্টে তাঁর স্বাক্ষর রয়েছে। এই সূত্র টেনে কুণালের প্রশ্ন, “তাহলে কি আগে থেকেই এর জন্য রেকি করা হয়েছিল? জেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তা থাকা বাড়ির সামনে এমন ঘটনা কীভাবে সম্ভব?” যদিও সব প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে কুণাল সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষ করে লিখেছেন, “আমি ডিম ভালোবাসি।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এর নেপথ্যে কোনো বড় কোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাটি ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে এবং রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। একদিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন, অন্যদিকে রাজনৈতিক বিরোধিতার ভাষা—সব মিলিয়ে এই ঘটনা বঙ্গ রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতির এক নগ্ন চিত্র তুলে ধরছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হলেও এই হামলার মাস্টারমাইন্ড কারা, তা নিয়েই এখন দানা বাঁধছে ধোঁয়াশা।





