২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা কি বেজে গেল সিঙ্গুর থেকেই? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই আগামী ২৮ জানুয়ারি সিঙ্গুরে সভা করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই সভাকে কেন্দ্র করেই ফের তপ্ত বাংলার রাজনীতি। বিরোধীদের তোলা ‘শিল্প তাড়ানোর’ অভিযোগের পাল্টা জবাবে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ সাফ জানিয়ে দিলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কেউ অ্যান্টি-ইন্ডাস্ট্রি বা অ্যান্টি-টাটা নয়।”
কুণাল ঘোষের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াই ছিল কৃষকদের অধিকারের জন্য, শিল্পের বিরুদ্ধে নয়। তিনি বলেন, “শিল্প সবসময় শিল্পের সহায়ক জমিতে হওয়া উচিত—এটাই ছিল আন্দোলনের মূল বার্তা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণ কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি আবার সিঙ্গুরে যাবেন এবং মানুষের পাশে থাকার বার্তা দেবেন।” আসলে সিঙ্গুর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক উত্থান এবং বাম জমানার পতন শুরু হয়েছিল। টাটারা গুজরাতে চলে যাওয়ার পর থেকেই বিরোধীরা মমতাকে ‘শিল্প-বিরোধী’ তকমা দিয়ে আসছে।
সম্প্রতি সিঙ্গুরের মাটি থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আইনশৃঙ্খলা ও শিল্পহীনতা নিয়ে রাজ্য সরকারকে কড়া আক্রমণ করেছেন। মোদীর সেই সভার পাল্টা দিতেই এবার সরাসরি রণক্ষেত্রে নামছেন মমতা। সূত্রের খবর, ২৮ জানুয়ারির সভায় মমতা সিঙ্গুরের মানুষের জন্য একগুচ্ছ নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করতে পারেন। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে বাম ও কংগ্রেস নেতৃত্ব—সকলেই বলছেন মমতার জন্যই বাংলা আজ শিল্পশূন্য। এখন দেখার, প্রধানমন্ত্রীর ‘সর্ষে ছড়ানো’র কটাক্ষ এবং শিল্পের খরা কাটাতে সিঙ্গুরের মঞ্চ থেকে মমতা কী ‘মাস্টারস্ট্রোক’ দেন।