‘সব আটকে থাকা আবাসন প্রকল্পের মঞ্চ হতে পারে না সুপ্রিম কোর্ট!’ ফ্ল্যাট ক্রেতাদের আবদার নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ দেশের প্রধান বিচারপতি

স্থগিত হয়ে থাকা বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পের (Stalled Housing Projects) ক্রেতাদের একের পর এক আবেদন জমা হওয়া নিয়ে মারাত্মক উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, সুপ্রিম কোর্ট কখনো প্রতিটি আটকে থাকা আবাসন প্রকল্পের জটিলতা সমাধানের মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে না। এভাবে প্রতিদিন নতুন নতুন আবেদন শুনতে থাকলে আদালতের মূল ও গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর সিদ্ধান্ত গ্রহণে মারাত্মক বিলম্ব ঘটবে।

কেন ক্ষুব্ধ শীর্ষ আদালত?

দেশজুড়ে প্রমোটার বা বিল্ডারদের প্রতারণা এবং কাজ বন্ধ থাকার কারণে হাজার হাজার ফ্ল্যাট ক্রেতা আইনি সুরক্ষার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন। তবে যেভাবে আবেদনকারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ।

বিচারপীঠের পর্যবেক্ষণ, প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ জন নতুন আবেদনকারী সুপ্রিম কোর্টে অন্তর্বর্তীকালীন আবেদন (IA), আদালত অবমাননার পিটিশন কিংবা নতুন মামলা নিয়ে হাজির হচ্ছেন। এতে করে প্রতিদিনের বিচারিক কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।

প্রধান বিচারপতির বক্তব্য ও বিকল্প পথ

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত শুনানি চলাকালীন মন্তব্য করেন, “আমরা ভাবতেও পারিনি যে এভাবে প্রতিদিন সাধারণ মানুষ একের পর এক আবেদন নিয়ে সরাসরি শীর্ষ আদালতে চলে আসবেন। যদি আমরা প্রতিটি প্রকল্পের আলাদা আলাদা ছোটখাটো বিবাদ নিষ্পত্তিতে আটকে থাকি, তবে সুপ্রিম কোর্টের মূল মামলাগুলোর শুনানি পিছিয়ে যাবে।”

একই সাথে আদালত ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ক্রেতাদের অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের হাইকোর্ট বা নির্ধারিত আইনি ট্রাইব্যুনালগুলোর (যেমন RERA বা Consumer Forum) মাধ্যমে নিজেদের অধিকার আদায়ের পথ বেছে নেওয়া উচিত। শীর্ষ আদালত শুধুমাত্র মূল বা লিড কেসগুলোর নীতিগত বিষয় নজরদারিতে রাখবে, তবে প্রতিটি আলাদা আলাদা প্রকল্পের দৈনন্দিন সমস্যার বিচারে জড়িয়ে পড়া কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়।

ফ্ল্যাট ক্রেতাদের ওপর প্রভাব

বহু বছর ধরে কষ্টার্জিত অর্থ বিনিয়োগ করে ফ্ল্যাটের চাবি না পেয়ে দিশেহারা হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। সুপ্রিম কোর্টের এই কঠোর বার্তার পর এখন ফ্ল্যাট ক্রেতাদের নিজ নিজ রাজ্যের বিচার ব্যবস্থা ও উপভোক্তা আদালতের আইনি পথেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। আদালতের এই অবস্থানের পর আবাসন খাতের বিরোধ নিষ্পত্তি কীভাবে এগোবে, সেদিকেই নজর রাখছে আইনি মহল।