ধর্মতলার রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ যেন এক লহমায় ফিরে গেল দেড় দশক আগের উত্তাল দিনগুলিতে। এসআইআর (SIR) আন্দোলনকারীদের সমর্থনে আয়োজিত ধরনা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ স্মরণ করলেন সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সেই ঐতিহাসিক স্মৃতি। দীর্ঘ সময় পর ফের রাজপথে নেত্রীর এই অবস্থান এবং পুরনো লড়াকু মেজাজ দেখে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
আন্দোলনের মঞ্চে নক্ষত্র সমাবেশ: মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরনা কর্মসূচিকে সমর্থন জানাতে এদিন ধর্মতলায় হাজির হয়েছিলেন বিশিষ্ট কবি জয় গোস্বামী এবং প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী কবীর সুমন। উল্লেখ্য, বাম আমলের শেষলগ্নে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনেও এই বুদ্ধিজীবীরা মমতার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। এদিন কবীর সুমনের কণ্ঠে ফের শোনা গেল পরিবর্তনের সেই চেনা সুর। জয় গোস্বামীও স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, মানুষের ন্যায্য দাবির লড়াইয়ে তাঁরা সবসময়ই পাশে আছেন।
মমতার স্মৃতিচারণ: মঞ্চ থেকে আবেগঘন কণ্ঠে মমতা বলেন, “আজকের এই ভিড়, মানুষের এই চোখের জল দেখে আমার বারবার সেই সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। তখন আমাদের ওপর কত অত্যাচার হয়েছিল, কিন্তু আমরা মাথা নত করিনি। আজও সেই একই লড়াই লড়ছি।” তিনি আরও যোগ করেন যে, অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার এই লড়াই কোনো রাজনৈতিক স্বার্থে নয়, বরং সাধারণ মানুষের স্বার্থে।
রাজনৈতিক তাৎপর্য: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক কিছু প্রশাসনিক টানাপড়েন এবং আরজি কর কাণ্ডের পর যখন বিরোধীরা মুখ্যমন্ত্রীকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে, তখন ফের ‘আন্দোলনকারী নেত্রী’র ভাবমূর্তি সামনে এনে পাল্টা চাল দিলেন মমতা। পুরনো দিনের সঙ্গী এবং বুদ্ধিজীবীদের পাশে নিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, লড়াইয়ের ময়দান তিনি এখনও ছাড়েননি।
রাত বাড়লেও ধর্মতলার ধরনা মঞ্চে ভিড় কমেনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘অতীত-স্মরণ’ এবং আন্দোলনের ডাক তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা তৈরি করেছে।