২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশলে বড়সড় চমক দিল তৃণমূল কংগ্রেস। শুক্রবার প্রকাশিত প্রার্থী তালিকায় স্পষ্ট, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল লক্ষ্য এখন সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক এবং নারী শক্তি। গত নির্বাচনের তুলনায় এবার মুসলিম ও মহিলা প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে বিরোধীদের কার্যত ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে ঘাসফুল শিবির।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালে তৃণমূলের সংখ্যালঘু প্রার্থী ছিল ৩৫ জন, যা এবার একলাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭-এ। রাজ্যের প্রায় ১২৫টি আসনে মুসলিম ভোটাররা নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেন, যার মধ্যে ৭০টি কেন্দ্রে তাঁদের ভোটেই জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়। এই বিশাল ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতেই তৃণমূলের এই ‘সুপরিকল্পিত’ পদক্ষেপ। অন্যদিকে, নারী ক্ষমতায়নেও জোর দিয়েছেন নেত্রী। এবার তৃণমূলের ৫২ জন মহিলা প্রার্থী ময়দানে নামছেন। তুলনামূলকভাবে বিজেপি ও বাম শিবিরের তালিকায় মহিলা প্রতিনিধিত্ব অনেকটাই কম।
তফশিলি জাতি (SC) ও উপজাতি (ST) ভোটারদের মন জয়েও কার্পণ্য করেনি শাসকদল। সংরক্ষিত আসনের বাইরেও মোট ৯৫ জন SC-ST প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে বিজেপির হিন্দুত্ববাদী মেরুকরণ আর অন্যদিকে বাম-আইএসএফ জোটের চ্যালেঞ্জ সামলাতে এই ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ তৃণমূলের তুরুপের তাস হতে পারে। শমীক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন বিজেপি অবশ্য মুসলিম প্রার্থী না দেওয়ার পেছনে ‘সমর্থনের অভাব’কে দায়ী করেছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক দানা বেঁধেছে।