বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের অন্তর্বর্তী বাজেটে কার্যত দরাজ হস্ত ধরা দিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বাজেট পেশ করে অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য একগুচ্ছ নতুন প্রকল্প ও ভাতার ঘোষণা করেন। বেকার যুবক-যুবতী থেকে শুরু করে সিভিক ভলান্টিয়ার, আশা কর্মী ও সরকারি কর্মচারী— সব পক্ষকেই খুশি করার চেষ্টা করা হয়েছে এই বাজেটে।
বাজেটের সেরা চমক ‘বাংলার যুব-সাথী’: বেকারত্ব ঘোচাতে রাজ্য সরকার নিয়ে এল ‘বাংলার যুব-সাথী’ প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী মাধ্যমিক উত্তীর্ণ বেকার যুবক-যুবতীরা মাসে ১,৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। আগামী ১৫ অগস্ট থেকে এটি চালু হবে। ৫ বছরের জন্য এই সুবিধা মিলবে এবং এতে প্রায় ৩০ লক্ষ যুবক উপকৃত হবেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই খাতের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৫ হাজার কোটি টাকা।
বেতন ও ভাতা বৃদ্ধির তালিকা:
-
আশা ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী: সাম্মানিক বাড়ল মাসিক ১,০০০ টাকা। এই কর্মীদের মৃত্যু হলে পরিবার পাবে ৫ লক্ষ টাকা।
-
সিভিক ভলান্টিয়ার ও ভিলেজ পুলিশ: তাঁদেরও সাম্মানিক বৃদ্ধি করা হয়েছে মাসিক ১,০০০ টাকা।
-
প্যারা টিচার ও শিক্ষাবন্ধু: সাম্মানিক বেড়েছে ১,০০০ টাকা।
-
মহার্ঘ ভাতা (DA): সরকারি ও আধা-সরকারি কর্মীদের ডিএ বেড়েছে আরও ৪ শতাংশ।
-
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার: চলতি ফেব্রুয়ারি থেকেই সাধারণ মহিলাদের ১,৫০০ এবং তফশিলিদের ১,৭০০ টাকা করে দেওয়া হবে।
এছাড়াও গিগ ওয়ার্কারদের (ডেলিভারি বয় বা অনলাইন সার্ভিস কর্মী) সামাজিক সুরক্ষা বীমার আওতায় আনার ঘোষণা হয়েছে। ক্ষেতমজুররা বার্ষিক ৪ হাজার টাকা পাবেন এবং ১০০ দিনের কাজের বিকল্প হিসেবে ‘মহত্মাশ্রী’ প্রকল্পে ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ভোটের আগে ‘বাংলার উন্নয়নের মডেল’ তুলে ধরতে কোমর বেঁধে নেমেছে নবান্ন।