বুধবার সকাল থেকেই সরগরম শহর। নির্বাচনী স্ট্র্যাটেজিস্ট সংস্থা আইপ্যাক (I-PAC)-এর অফিস এবং সংস্থার প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়িতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর তল্লাশি ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় পরিস্থিতি। ইডির অভিযানের খবর পেয়েই সটান ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এবার রাজ্য রাজনীতিতে বোমা ফাটালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
আইপ্যাক অফিসে ইডির অভিযানে বাধা দেওয়ার অভিযোগে সরব হয়ে শুভেন্দু অধিকারী চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ করছি, ওঁর বাসভবনে একবার রেড করানো হোক। ওখান থেকেই অন্তত ১০০ কোটি টাকা নগদ উদ্ধার হবে।” শুভেন্দুর অভিযোগ, আইপ্যাক কোনো রাজনৈতিক দল নয়, বরং একটি কর্পোরেট সংস্থা। সেখানে ভোটার লিস্ট কেন থাকবে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী এর আগেও রাজীব কুমারের সময় একইভাবে কেন্দ্রীয় এজেন্সির কাজে বাধা দিয়েছিলেন এবং এটা তাঁর স্বভাবসিদ্ধ আচরণ।
অন্যদিকে, আইপ্যাক অফিসে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেজাজ হারান। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “এটা স্রেফ তল্লাশি নয়, এটা একটা বড় ক্রাইম। আমাদের দলের সমস্ত নির্বাচনী ডেটা, ল্যাপটপ, হার্ড ডিস্ক এবং গোপন নথি বাজেয়াপ্ত করার চেষ্টা করছে ওরা। আমরা রেজিস্টার্ড দল, অডিট করি, ট্যাক্স দিই। ভোটের আগে আমাদের স্ট্র্যাটেজি নষ্ট করার চক্রান্ত চলছে। কেন বিজেপির কাছে আইটি নোটিশ যায় না?” মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আইপ্যাক তৃণমূলের ‘অথরাইজড টিম’, কোনো বহিরাগত সংস্থা নয়।
শুভেন্দু পালটা দিয়ে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারের ওখানে যাওয়া সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক। কেন্দ্রীয় এজেন্সির কাজে বারবার এভাবে বাধা দিলে বাংলায় ভুল বার্তা যাবে।” তিনি আরও দাবি করেন, বিজেপির কোনো নেতার বাড়িতে ৫১ কোটি পাওয়া যাবে না, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর কালীঘাটের বাড়িতে তল্লাশি চালালে ১০০ কোটির হদিশ মিলবে। নির্বাচনী মরসুমের আগে আইপ্যাক বিতর্ক এখন রাজপথ থেকে আদালত পর্যন্ত গড়ায় কি না, সেটাই দেখার।