ভোট যত এগোচ্ছে, শব্দবাণের তীব্রতা ততই বাড়ছে। বাংলার রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত ইস্যু ‘বহিরাগত’। এবার সেই ইস্যুতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তবে তিনি যেভাবে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগে ‘সিলমোহর’ দিলেন, তাতে রীতিমতো চমকে গিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মমতার অভিযোগ ও শমীকের ‘স্বীকারোক্তি’ সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনী জনসভা থেকে অভিযোগ তুলেছিলেন যে, ভোটের সময় অশান্তি পাকাতে বিজেপি বাইরে থেকে ‘বহিরাগত’ লোক ঢোকাচ্ছে। সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠকে সেই প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী ঠিক কথাই বলেছেন, আমরা লোক আনছি। তবে তাঁরা বহিরাগত নন, তাঁরা বাংলার ভূমিপুত্র।” ৭৩টি স্পেশ্যাল ট্রেনের রহস্য: শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, প্রায় ৭৩টি স্পেশ্যাল ট্রেনে করে ভিনরাজ্যে কর্মরত বাংলার লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক বাড়ি ফিরছেন। তিনি বলেন:
গুজরাটের সুরাট এবং মহারাষ্ট্র-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের শ্রমিকরা নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে ফিরছেন।
এদের ‘বহিরাগত’ বলে মুখ্যমন্ত্রী অপমান করছেন বলে অভিযোগ তোলেন শমীক।
বিজেপি সভাপতির দাবি, এই শ্রমিকরা ভিনরাজ্যে বাংলা বলার জন্য নিগৃহীত হয়েছেন, আর এবার তাঁরা ব্যালট বক্সেই তার জবাব দেবেন।
ভোটের মুখে পরিযায়ী তাস: বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে শমীকের এই ‘পরিযায়ী তাস’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে পরিযায়ী শ্রমিকদের ভোট একটি বড় ফ্যাক্টর। বিজেপি বোঝাতে চাইছে, রাজ্যে কর্মসংস্থান নেই বলেই মানুষ বাইরে গিয়েছেন এবং তাঁরাই এখন পরিবর্তনের প্রধান কাণ্ডারি হতে চলেছেন।
পালটা তৃণমূলের দাবি, ট্রেন ভর্তি করে লোক এনে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে গেরুয়া শিবির। ‘বহিরাগত’ বনাম ‘পরিযায়ী’— এই টানাপোড়েনে ভোটের পারদ এখন তুঙ্গে। আগামী ৪ মে ব্যালট বক্স খুললেই বোঝা যাবে, পরিযায়ী শ্রমিকদের এই ঘরে ফেরা কোন দলের ভাগ্য বদলে দেয়।





