ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোয় নির্বাচন কমিশন একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সম্প্রতি দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, কমিশনারকে পদ থেকে সরাতে ইমপিচমেন্ট বা অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করা হোক। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, ভারতের ইতিহাসে যা আগে কখনও ঘটেনি, সেই প্রক্রিয়া কি আদৌ সম্ভব? সংবিধান কী বলছে?
ভারতীয় সংবিধানের ৩২৪(৫) নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরানো কার্যত হিমালয় টপকানোর মতো কঠিন। সংবিধানে স্পষ্ট বলা আছে, সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতিকে যে কঠোর প্রক্রিয়ায় অপসারিত করা হয়, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ক্ষেত্রেও ঠিক একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, কেবলমাত্র ‘প্রমাণিত অসদাচরণ’ অথবা ‘অক্ষমতা’র ভিত্তিতেই তাঁকে সরানো সম্ভব।
এই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হলো সংসদের নোটিস। লোকসভার অন্তত ১০০ জন সাংসদ অথবা রাজ্যসভার ৫০ জন সদস্যের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি প্রস্তাব স্পিকার বা চেয়ারম্যানের কাছে জমা দিতে হয়। যদি স্পিকার সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেন, তবে ‘জাজেস এনকোয়ারি অ্যাক্ট’ অনুযায়ী একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিতে থাকেন সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতি, একটি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এবং একজন বিশিষ্ট আইনজ্ঞ।
তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিষয়টি সংসদে ভোটাভুটির জন্য আসে। সেখানে উপস্থিত সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ এবং সংসদের মোট সদস্য সংখ্যার অর্ধেকের বেশি ভোট যদি প্রস্তাবের পক্ষে যায়, তবেই তা অনুমোদিত হয়। সবশেষে রাষ্ট্রপতি সেই অপসারণ পত্রে স্বাক্ষর করলে পদ হারান কমিশনার। ভারতের ইতিহাসে আজ পর্যন্ত কোনো মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে এই প্রক্রিয়ায় সরানোর নজির নেই। ফলে মমতার এই দাবি আইনি ও রাজনৈতিকভাবে কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে তুঙ্গে উঠেছে চর্চা।