রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বড় ঘোষণার পর ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও জারি হয়নি কোনো সরকারি বিজ্ঞপ্তি। আর এই বিলম্ব ঘিরেই এখন রাজ্য সরকারি মহলে তৈরি হয়েছে তীব্র জল্পনা ও সংশয়। গত রবিবার বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন যে, সরকার বকেয়া ডিএ (ROPA 2009 অনুযায়ী) মেটানো শুরু করবে। কিন্তু সোমবার রাত পর্যন্ত নবান্ন থেকে কোনো লিখিত নির্দেশিকা বা ফিন্যান্স ডিপার্টমেন্টের মেমোরেন্ডাম না আসায় কর্মীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ।
সাধারণত, মুখ্যমন্ত্রী বা অর্থমন্ত্রী কোনো আর্থিক সুবিধা ঘোষণা করলে দ্রুত তার বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। কিন্তু এবারের ক্ষেত্রে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। সোমবার বিকেল থেকেই বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কর্মীরা বিজ্ঞপ্তির খোঁজ শুরু করেন। সরকারি নির্দেশিকা ছাড়া এই ডিএ কার্যকর হওয়া সম্ভব নয়। কর্মীদের একাংশের প্রশ্ন, নির্বাচন কমিশনের ‘মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট’ বা নির্বাচনী বিধি জারি হয়ে যাওয়ায় কি বিজ্ঞপ্তিতে আইনি জটিলতা তৈরি হলো?
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের মতো কর্মচারী সংগঠনগুলি এই বিষয়টিকে খুব একটা সহজভাবে নিচ্ছে না। তাদের দাবি, বিজ্ঞপ্তি না আসা পর্যন্ত কোনো প্রতিশ্রুতিই বিশ্বাসযোগ্য নয়। এর আগেও একাধিকবার ডিএ নিয়ে টালবাহানা হয়েছে, তাই এবারও কোনো কারিগরি কারণে সুবিধা হাতছাড়া হয় কি না, তা নিয়ে উদ্বেগে সাধারণ কর্মীরা। এখন দেখার, নবান্ন কত দ্রুত এই জট কাটিয়ে সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কর্মীদের আশ্বস্ত করতে পারে।