বাংলার রাজনীতিতে ‘ভবানীপুর’ কেন্দ্রটি বরাবরই হাইভোল্টেজ। কিন্তু এবার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রচার সভার আগে এক নতুন স্লোগানকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। দক্ষিণ কলকাতার এই গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্রের অলিগলিতে এখন বিজেপির কর্মীদের মুখে মুখে ফিরছে একটিই বার্তা— “ভবানীপুরে জিতবে যে, মুখ্যমন্ত্রী হবে সে!” শুভেন্দু অধিকারীর পদযাত্রার ঠিক আগেই এই স্লোগান ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই স্লোগান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে যেমন এটি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের কেন্দ্র, অন্যদিকে বিজেপি এই সভার মাধ্যমে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে তৃণমূলের ক্ষমতার ভিতকে। শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার পর থেকেই দাবি করে আসছেন যে, ভবানীপুরেও তৃণমূলের পায়ের তলার মাটি আলগা হয়েছে। আজকের এই নতুন স্লোগান সেই লড়াইকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল। বিজেপির দাবি, ভবানীপুরের মানুষ এবার বদল চাইছে এবং এই কেন্দ্রের জয়ই ঠিক করে দেবে আগামীর নবান্নের ভাগ্য।
স্বাভাবিকভাবেই এই স্লোগান নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, ভবানীপুর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের ঘর। এখানকার মানুষ বারবার দিদির ওপর ভরসা দেখিয়েছেন। বিজেপির এই ধরনের ‘উস্কানিমূলক’ স্লোগান কেবল সস্তায় প্রচার পাওয়ার চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, ভবানীপুরের জনতা বহিরাগত সংস্কৃতি বা বিভাজনের রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেয় না। তবে শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে বিজেপির এই সক্রিয়তা এবং নজরকাড়া স্লোগান কি সত্যিই ভবানীপুরের ভোটারদের মনে প্রভাব ফেলবে, নাকি এটি কেবল রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই থেকে যাবে— সেটাই এখন দেখার।





