প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে যে বিদ্রোহের আগুন জ্বলছিল, তাতে জল ঢাললেন খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজগঞ্জ বিধানসভার টিকিট না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়া বিদায়ী বিধায়ক খগেশ্বর রায় অবশেষে শান্ত হলেন। বুধবার রাতে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর ফোন পাওয়ার পর সুর বদলে খগেশ্বর জানালেন, তিনি দলেই থাকছেন এবং দলের প্রার্থীর হয়েই কাজ করবেন।
জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং চারবারের বিধায়ক খগেশ্বর রায়কে এবার প্রার্থী করেনি দল। তাঁর জায়গায় এশিয়াডে সোনাজয়ী অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মনকে প্রার্থী করায় চরম ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন তিনি। গত কয়েকদিন ধরে দলের অন্দরে রীতিমতো ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছিলেন এই প্রবীণ নেতা। এমনকি প্রকাশ্যে অভিযোগ তুলেছিলেন যে, “টাকা দিয়ে টিকিট বিক্রি করা হয়েছে” এবং সেই টাকার কাছেই তিনি হেরে গিয়েছেন। জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান পদ থেকেও পদত্যাগের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল খগেশ্বরের। কিন্তু তার আগেই বুধবার রাতে তাঁর ফোনে আসে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কল। সেই এক ফোনেই বদলে যায় সব সমীকরণ। খগেশ্বর রায় বলেন, “দিদি আমাকে ফোন করেছিলেন। তিনি দলে থেকে কাজ করতে বলেছেন। দিদির কথা আমি অমান্য করতে পারব না। আমার অভিমান তো হবেই, কারণ চারবার জিতেও আমাকে আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি। তবে দিদি বলেছেন পরবর্তীতে আমার বিষয়টি তিনি দেখবেন।”
একসময় টিকিট না পেয়ে নির্দল হয়ে দাঁড়ানোর জল্পনা উসকে দিলেও, এখন খগেশ্বর রায় বলছেন অন্য কথা। রাজগঞ্জের প্রতিটি অঞ্চল সভাপতি যারা তাঁর সাথে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তাঁরাও এখন দলের হয়েই ময়দানে নামছেন। খগেশ্বর স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি এবার স্বপ্না বর্মনের জয়ের জন্য কাজ করবেন।
একনজরে খগেশ্বরের রাজনৈতিক সফর:
২০০৯: উপনির্বাচনে প্রথমবার জয়।
২০১১, ২০১৬, ২০২১: টানা তিনবার বিধায়ক হিসেবে জয়লাভ।
২০২৬: টিকিট না পাওয়ায় সাময়িক বিদ্রোহ এবং অবশেষে সমঝোতা।