ভোটের আবহে বাংলায় যখন তৃণমূলের বিরুদ্ধে রণংদেহী মেজাজে সিপিএম, ঠিক তখনই উল্টো সুর বর্ষীয়ান বাম নেতা মানিক সরকারের গলায়। এসআইআর (SIR) ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদালতের সক্রিয়তাকে কার্যত দরাজ শংসাপত্র দিলেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। আর এতেই আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের অন্দরে শুরু হয়েছে চরম অস্বস্তি।
কী বললেন মানিক সরকার? সম্প্রতি ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টে সশরীরে উপস্থিত হয়ে সওয়াল করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনাপ্রসঙ্গে মানিক সরকার বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী নিজে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে কথা বলেছেন। উনি তো মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পাশাপাশি একজন অ্যাডভোকেটও। আদালতে সাধারণ নাগরিক হিসেবে যে ৬-৭টি পয়েন্ট তিনি তুলে ধরেছেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই উদ্যোগকে কোনোভাবেই খাটো করে দেখতে চাইছি না। এটা একটা কার্যকরী উদ্যোগ।” তবে তিনি এও যোগ করেন যে, উদ্যোগটি আরও আগে নেওয়া উচিত ছিল।
সিপিএমে দ্বিমত ও তৃণমূলের কটাক্ষ: মানিকের এই মন্তব্যে রাজ্য সিপিএমের অস্বস্তি এখন তুঙ্গে। কারণ, মহম্মদ সেলিম বা সুজন চক্রবর্তীরা এই গোটা বিষয়টিকে ‘নাটক’ বলে আক্রমণ করে আসছেন। মানিক সরকারের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সুজন চক্রবর্তী সাফাই দিয়ে বলেন, “আমরা তো বলিনি উনি খারাপ করেছেন। কিন্তু প্রশাসনিক প্রধানের দায়িত্ব না পালন করে উনি দেরি করে গিয়েছেন। পুরো বিষয়টাই নাটকীয় ছিল।” অন্যদিকে, এই সুযোগ হাতছাড়া করেনি তৃণমূল। কুণাল ঘোষের খোঁচা, “বাকি সিপিএম নেতাদের উচিত মানিক সরকারের কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়া।”