মমতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ! দুই আসনে লড়ার ঘোষণা হুমায়ুন কবীরের, মুর্শিদাবাদে কি বড় ভাঙন?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই রাজ্য রাজনীতিতে সবথেকে বড় ‘বিদ্রোহী’ মুখ হিসেবে উঠে এলেন হুমায়ুন কবীর। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর তিনি শুধু নিজের নতুন দল ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (AJUP) গঠনই করেননি, বরং আসন্ন নির্বাচনে দুটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বড়সড় ঘোষণা দিয়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন।

কেন এই জোড়া আসনে লড়াই? সূত্রের খবর, নিজের গড় ভরতপুরের পাশাপাশি মুর্শিদাবাদের আরও একটি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসন থেকে লড়াই করবেন হুমায়ুন। রাজনৈতিক মহলের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভোটব্যাঙ্কে ফাটল ধরাতেই এই মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছেন তিনি। এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হুমায়ুন সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “তৃণমূল এবার ১০০টি আসনও পার করতে পারবে না। আমি দেখিয়ে দেব আসল জনভিত্তি কার দিকে।”

লক্ষ্য যখন নবান্ন ও মমতা: হুমায়ুন কবীরের এই লড়াই যে ব্যক্তিগত ইগোর লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে, তা তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যেই স্পষ্ট। তিনি দাবি করেছেন:

  • সংখ্যালঘু ভোট: মুর্শিদাবাদ, মালদা এবং উত্তর দিনাজপুরের মতো জেলাগুলোতে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক তাঁর দলের দিকেই ঝুঁকে পড়বে।

  • জোট সমীকরণ: ইতিমধ্যেই আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল মিম (AIMIM)-এর সঙ্গে জোট নিয়ে আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছেন তিনি।

  • দিদিকে নিশানা: মমতাকে নিশানা করে তিনি বলেন, “দলে যোগ্যদের সম্মান নেই, তাই মানুষ এবার বিকল্প বেছে নেবে।”

তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া: পাল্টা সুর চড়িয়েছে ঘাসফুল শিবিরও। ভরতপুরে হুমায়ুনের ছেড়ে যাওয়া জমি শক্ত করতে পুরনো নেতাদের পদে ফিরিয়ে এনেছে তৃণমূল। দলের জেলা নেতৃত্বের দাবি, “হুমায়ুন কবীর মানেই বিতর্ক। ভোটে তাঁর কোনো প্রভাব পড়বে না।”

উল্লেখ্য, মুর্শিদাবাদে বাবরী মসজিদের আদলে নতুন মসজিদ তৈরির ঘোষণা দিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন হুমায়ুন, যার পরেই তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এখন দেখার, দুই আসনে লড়ে তিনি সত্যিই ‘কিংমেকার’ হতে পারেন নাকি কেবল ‘ভোটকাটুয়া’ হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy