মন্ত্রী থাকতে হলে লড়া যাবে না ভোট! নেপালে নির্বাচনের আগে ঐতিহাসিক সাফাই অভিযান প্রধানমন্ত্রী কারকির।

প্রতিবেশী দেশ নেপালে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার চূড়ান্ত গণতন্ত্রের পথে হাঁটার পালা। হাজারো প্রতিকূলতা আর তরুণ প্রজন্মের (Gen Z) তীব্র চাপের মুখেও নিজের অবস্থানে অনড় থাকলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কারকি। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ৫ মার্চই নেপালে সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন নিয়ে সুশীলার ‘ক্লিন ইমেজে’র দাওয়াই

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কারকি এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁর মন্ত্রিসভায় থাকা যে সব রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান, তাঁদের অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।

  • ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ করেছেন জনপ্রিয় শক্তি মন্ত্রী কুলমান ঘিসিং

  • পদত্যাগের তালিকায় রয়েছেন আরও দুই মন্ত্রী— বাবলু গুপ্তা ও জগদীশ খারেল। সুশীলার বক্তব্য, “আমি অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্ষমতায় থাকতে আসিনি। আমার কাজ ছ’মাসের মধ্যে একটি অবাধ নির্বাচন উপহার দেওয়া।”

জেন জ়ি আন্দোলনের প্রেক্ষাপট

গত বছরের সেপ্টেম্বরে সোশাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছিল নেপালের তরুণ প্রজন্ম। সেই ভয়াবহ জেন জ়ি আন্দোলনে ১৯ জন প্রাণ হারানোর পর ক্ষমতাচ্যুত হন কেপি শর্মা ওলি। ১২ সেপ্টেম্বর দেশের প্রথম মহিলা প্রধান বিচারপতি সুশীলা কারকিকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেয় ছাত্র-জনতা। তবে বর্তমানে আন্দোলনের কিছু নেতা দ্রুত আরও বড় পরিবর্তন চাইলেও, সুশীলা সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ক্ষমতা হস্তান্তরের পথে অবিচল।

শান্তিপূর্ণ ভোটের লক্ষ্যে একজোট হেভিওয়েটরা

নির্বাচন যেন রক্তপাতহীন হয়, সে জন্য নেপালের তিন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী— পুষ্প কমল দহল ওরফে প্রচণ্ড, শের বাহাদুর দেউবা এবং কেপি শর্মা ওলি-র সঙ্গেও বৈঠক করেছেন সুশীলা। ৫ মার্চের এই লড়াইয়ে ওলি-সহ অন্য হেভিওয়েটরা অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

কেন চাপে ছিলেন সুশীলা?

আন্দোলনকারী তরুণদের একটি অংশের দাবি ছিল আরও কঠোর সংস্কার। কিন্তু সুশীলা জানিয়েছেন, তাঁর সরকার কেবল একটি ‘ব্রিজ’ বা সেতু হিসেবে কাজ করছে। নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে এক দিনও তিনি প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে থাকতে রাজি নন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy