আমরা সাধারণত শারীরিক ব্যথার জন্য ওষুধ বা মলম খুঁজি। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার শরীরের ক্রমবর্ধমান যন্ত্রণার উৎস হয়তো কোনো ক্ষত নয়, বরং আপনার মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা ‘অপ্রকাশিত আবেগ’? সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স মেডিসিনের গবেষকরা এক বিস্ময়কর তথ্য সামনে এনেছেন, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
আবেগ যখন শারীরিক শত্রু গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিজেদের আবেগ বা অনুভূতি স্পষ্টভাবে বুঝতে পারেন না কিংবা অন্যের কাছে প্রকাশ করতে পারেন না, তাঁদের শারীরিক ব্যথার মাত্রা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় আবেগ শনাক্ত করার এই বিশেষ অক্ষমতাকে বলা হয় ‘অ্যালেক্সিথাইমিয়া’ (Alexithymia)। এটি কোনো সাধারণ মানসিক বিভ্রান্তি নয়, বরং এর সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদের স্নায়ুতন্ত্র ও পেশির ওপর।
গবেষণায় কী উঠে এল? দীর্ঘস্থায়ী ব্যথায় আক্রান্ত প্রায় ১,৪৫০ জন রোগীর ওপর দীর্ঘকালীন পরীক্ষা চালিয়ে গবেষকরা দেখেছেন:
মানসিক চাপের বিষচক্র: আবেগ প্রকাশে অক্ষম ব্যক্তিরা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চরম মানসিক চাপের শিকার হন। এই চাপ ব্যথার অনুভূতিকে আরও তীব্র ও অসহনীয় করে তোলে।
বিষণ্নতা ও উদ্বেগের যোগসূত্র: যাদের মধ্যে অ্যালেক্সিথাইমিয়ার মাত্রা বেশি, তাদের মধ্যে বিষণ্নতা এবং উদ্বেগের লক্ষণ সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক বেশি প্রকট।
অকার্যকর ওষুধ: অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ব্যথার সব রকম ওষুধ কাজ করলেও মানসিক অস্থিরতার কারণে সেই কষ্ট ফিরে ফিরে আসে।
ব্যথা মুক্তির নতুন পথ গবেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার চিকিৎসা কেবল পেইনকিলারে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। যদি রোগী নিজের আবেগ অনুধাবন করতে শেখেন এবং তা অকপটে প্রকাশ করতে পারেন, তবে শারীরিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া অনেক সহজ হয়। অর্থাৎ, মনের জট খুললেই শরীরের গিঁটে গিঁটে থাকা ব্যথা অনেকটা লাঘব হতে পারে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিজের অনুভূতিগুলিকে ডায়েরিতে লিখে রাখা বা বিশ্বস্ত কারোর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হতে পারে আপনার প্রাথমিক প্রতিকার। তবে সমস্যা গুরুতর হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। মনে রাখবেন, সুস্থ থাকতে মনের কথা বলাটাও এক ধরণের চিকিৎসা।





