মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নাটকীয় মোড়! ইরানের জলসীমায় যখন উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে, ঠিক তখনই পাকিস্তানের জন্য বড়সড় ‘উপহার’ নিয়ে হাজির হল তেহরান। স্ট্র্যাটেজিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে পাকিস্তানের ২০টি জাহাজকে যাতায়াতের বিশেষ অনুমতি দিল ইরান। পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার নিজেই এই চাঞ্চল্যকর ঘোষণা করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, হঠাৎ কেন ইসলামাবাদের প্রতি এত ‘দয়াবান’ হয়ে উঠল ইরান? তবে কি আরব দুনিয়া ও ইরানের দ্বন্দ্বে ‘মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে কাজ করার পুরস্কার পেল পাকিস্তান?
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-তৃতীয়াংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। গত কয়েক মাসে ইজরায়েল-হামাস সংঘর্ষ এবং লোহিত সাগরে হুতি বিদ্রোহীদের তাণ্ডবের জেরে এই রুট দিয়ে জাহাজ চালানো রীতিমতো বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ দেশের জাহাজকে যেখানে ইরান কড়া নজরদারিতে রাখছে বা বাধা দিচ্ছে, সেখানে পাকিস্তানের ২০টি কার্গো জাহাজকে অবাধ প্রবেশাধিকার দেওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান গত কয়েক মাস ধরে ইরান এবং সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্কের বরফ গলাতে পর্দার আড়ালে কাজ করছে। ইসলামাবাদ নিজেকে একটি ‘নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে। তেহরানের এই পদক্ষেপ সেই প্রচেষ্টারই ফলশ্রুতি বলে মনে করা হচ্ছে। ইশাক দার জানিয়েছেন, এই অনুমতির ফলে পাকিস্তানের সামুদ্রিক বাণিজ্য কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে এবং জ্বালানি সংকটের মোকাবিলা করা সহজ হবে।
তবে এই ঘটনায় ভারতের জন্য কিছুটা উদ্বেগের কারণ থাকতে পারে। চাবাহার বন্দর এবং এই অঞ্চলে ভারতের যে কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে, সেখানে পাকিস্তানের এই বিশেষ সুবিধা পাওয়া নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইরান কি তবে চিরশত্রু ছেড়ে পুরোনো বন্ধুর দিকেই বেশি ঝুঁকছে? নাকি এটি কেবলই একটি বাণিজ্যিক চুক্তি? ২০২৬-এর এই উত্তাল সময়ে দাঁড়িয়ে হরমুজ প্রণালীর এই সবুজ সংকেত দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে নতুন কোনো ঝড়ের পূর্বাভাস দিচ্ছে কি না, সেটাই এখন দেখার।