মধ্যমগ্রামের ট্রলি-কাণ্ডে হাড়হিম করা রায়! মা-মেয়েকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল বারাসত আদালত

মধ্যমগ্রামের হাড়হিম করা ট্রলি-কাণ্ডে অবশেষে সাজা ঘোষণা করল বারাসত আদালত। সুমিতা ঘোষকে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত মা ও মেয়েকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার বারাসতের সপ্তম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারক প্রজ্ঞাগার্গী ভট্টাচার্য (হুসেন) এই রায় ঘোষণা করেন।

দুই ধাপে সাজা শুরু: দোষী সাব্যস্ত ফাল্গুনী ঘোষ ও তাঁর মা আরতি ঘোষকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি তথ্যপ্রমাণ লোপাটের (ভারতীয় ন্যায় সংহিতা আইনের 103(1) ও 238/3(5) ধারা) অপরাধে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, যাবজ্জীবন সাজার আগে এই সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড শুরু হবে। এর অর্থ, মা ও মেয়েকে আজীবন কারাগারেই কাটাতে হবে।

খুনের নৃশংসতা: চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যমগ্রামের দক্ষিণ বীরেশ পল্লির বাড়িতে বিবাহবিচ্ছিন্না সুমিতা ঘোষকে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ ওঠে ফাল্গুনী ও তাঁর মা আরতির বিরুদ্ধে। তদন্তে জানা যায়, সম্পত্তি ও সোনার গয়নার লোভে তাঁরা সুমিতাকে পরিকল্পনা করে হত্যা করেন।

খুনের বিবরণ: ফাল্গুনীর প্রাক্তন স্বামীর বাড়িতে ঘুরে আসার পর ২৩ ফেব্রুয়ারি তাঁদের মধ্যে অশান্তি হয়। অশান্তির সময় ফাল্গুনী ভারী কিছু দিয়ে সুমিতার মাথায় আঘাত করেন এবং মা-মেয়ে মিলে তাঁকে শ্বাসরোধ করে খুন করেন।

ওই দিন গভীর রাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে সুমিতার মুণ্ডু দেহ থেকে আলাদা করে দেওয়া হয়।

খুনের পর মা ও মেয়ে সুমিতার গয়না খুলে ২ লক্ষ ৫৯ হাজার টাকায় বিক্রি করে এবং নিহতের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকেই ৫০ হাজার টাকা আগাম দিয়ে নিজেদের জন্য ১ লক্ষ ৬৩ হাজার টাকার সোনার গয়নার অর্ডার দেন।

পরের দিন হাতুড়ি দিয়ে সুমিতার দু’টো পা ভেঙে দেহটি ট্রলিতে ঢোকানো হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারি ভোরে ট্রলিতে দেহ ভরে গঙ্গার ঘাটে ফেলার সময় উত্তর বন্দর থানার পুলিশের হাতে ধরা পড়েন মা ও মেয়ে।

মামলার গতিপ্রকৃতি: প্রায় আট মাস ধরে চলা এই মামলায় মোট ৩২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছিল। সরকারি আইনজীবী ফাঁসির দাবি জানালেও, বিচারক মামলাটিকে ‘বিরলের মধ্যে বিরলতম’ মনে না করায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন। এছাড়া আসামিদের দেড় লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী তারকচন্দ্র দাস এই রায়ের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে সাজা ঘোষণার সময় মা ও মেয়ে দু’জনকেই আদালতকক্ষে নিরুত্তাপ দেখা যায়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy