মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রভাব এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল রাজ্যের জরুরি পরিষেবা এবং হস্টেলগুলোতে। সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাঘাত ঘটায় আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ থেকে শুরু করে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দু হস্টেল—সর্বত্রই দেখা দিয়েছে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের তীব্র সংকট।
হস্টেল ও হাসপাতালে সংকট:
প্রেসিডেন্সির ঐতিহাসিক হিন্দু হস্টেলে গত দু’দিন ধরে তালা পড়েছে রান্নাঘরে। ১২০ জন আবাসিক পড়ুয়ার প্রতিদিন একটি করে সিলিন্ডার লাগে, কিন্তু সরবরাহ না থাকায় তাঁরা দ্বিগুণ খরচে বাইরের খাবারের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যদিকে, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালের রোগীদের রান্নাঘর চালু থাকলেও, স্টুডেন্ট ও নার্সিং হোস্টেলের ক্যান্টিনে গ্যাসের আকাল দেখা দিয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে, কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পরিষেবা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কেন্দ্রের জরুরি নির্দেশিকা:
এই সংকটময় পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও সুনিশ্চিত করতে ১০ মার্চ পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করেছে। সমস্ত গার্হস্থ্য গ্যাস গ্রাহকদের জন্য ই-কেওয়াইসি (eKYC) সম্পন্ন করা এখন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মন্ত্রকের মতে, এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ভর্তুকি ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে এবং কালোবাজারি রোখা সম্ভব হবে।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের এই আবহে, নিজেদের গ্যাসের সংযোগ সুরক্ষিত রাখতে গ্রাহকদের দ্রুত ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া শেষ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।