ক্যানসার বা স্নায়ুরোগ নির্ণয়ের অন্যতম প্রধান ভরসা এমআরআই (MRI) স্ক্যান। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে এই পরিষেবা ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমআরআই মেশিনের সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেটকে অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় (প্রায় মাইনাস ২৬৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস) শীতল রাখতে তরল হিলিয়াম গ্যাস অপরিহার্য। কিন্তু যুদ্ধের প্রভাবে এই গ্যাসের বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়েছে।
কেন এই সংকট?
শিল্প মহলের অনুমান অনুযায়ী, কাতারের রাস লাফান প্ল্যান্টে ধর্মঘটের জেরে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজার থেকে প্রায় ৩০ শতাংশ হিলিয়াম সরবরাহ গায়েব হয়ে গিয়েছে। ভারত এই গ্যাসের জন্য প্রায় সম্পূর্ণভাবে আমদানির ওপর নির্ভরশীল, যার ৩০ শতাংশ আসে কাতার থেকে এবং বাকিটা আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে। মেডিকেল টেকনোলজি অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (MTaI)-এর চেয়ারম্যান পবন চৌধুরীর মতে, লিকুইড হিলিয়াম আধুনিক রোগ নির্ণয়ের এক ‘নীরব পরিকাঠামো’, যার ওপর বর্তমান সংঘাত সরাসরি আঘাত হেনেছে।
রোগীদের ওপর প্রভাব:
রেডিওলজিস্ট ডাঃ হর্ষ মহাজন সতর্ক করেছেন যে, হিলিয়ামের দুষ্প্রাপ্যতা বাড়লে এমআরআই স্ক্যানের খরচ বহুগুণ বাড়তে পারে। শুধু তাই নয়, নতুন মেশিন বসানো বা পুরনো মেশিনের রক্ষণাবেক্ষণ থমকে যাওয়ায় রোগীদের স্ক্যানের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে। যদিও নতুন প্রযুক্তিতে হিলিয়ামের ব্যবহার কমানোর চেষ্টা চলছে, তবুও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এই গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কাটানো এখনই সম্ভব নয়।





