ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই নিজের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির প্রভাব দেখাতে শুরু করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তাঁর সরাসরি নিশানায় ইরান। পশ্চিম এশিয়া তথা মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে তেহরানকে বাগে আনতে মার্কিন নৌবাহিনীকে বিশেষ নির্দেশ দিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। পেন্টাগন সূত্রে খবর, ইরান সংলগ্ন সমুদ্রে বিশাল যুদ্ধজাহাজ ও পরমাণু শক্তিচালিত রণতরী মোতায়েনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ট্রাম্পের মেগা মুভ: হোয়াইট হাউস সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, ইরানের ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক তৎপরতা এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে আনতেই এই পেশিশক্তি প্রদর্শনের পথ বেছে নিয়েছে আমেরিকা। ট্রাম্পের এই নির্দেশের প্রধান উদ্দেশ্যগুলো হলো:
-
তেহরানকে চাপে রাখা: ইরানের সামরিক অবস্থান এবং ড্রোন প্রযুক্তির বাড়বাড়ন্ত রুখতে সমুদ্রপথে ঘেরাও করা।
-
মিত্রদের সুরক্ষা: ইজরায়েল ও অন্যান্য পশ্চিম এশীয় মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন নৌবহরের উপস্থিতি বাড়ানো।
-
কড়া বার্তা: ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আমেরিকার স্বার্থে আঘাত লাগলে তিনি সরাসরি সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে দ্বিধা করবেন না।
কী থাকছে এই মোতায়েনে? মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, মোতায়েন করা হচ্ছে অত্যাধুনিক বিমানবাহী রণতরী (Aircraft Carrier), যা কয়েকশো যুদ্ধবিমান বহনে সক্ষম। সেই সঙ্গে গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার এবং সাবমেরিনও রয়েছে এই নৌবহরের তালিকায়। এর ফলে পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরে আমেরিকার শক্তি বহুগুণ বেড়ে গেল।
ইরানের প্রতিক্রিয়া: আমেরিকার এই পদক্ষেপকে ‘উস্কানিমূলক’ বলে আখ্যা দিয়েছে তেহরান। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনো ধরণের আগ্রাসনের মোকাবিলা করতে তাঁরাও প্রস্তুত। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের বারুদের স্তূপে আগুনের ফুলকি হিসেবে কাজ করতে পারে।
উপসংহার: প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের এই আগ্রাসী মেজাজ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করছে। প্রশ্ন উঠছে, এই মোতায়েন কি শুধুই ‘চাপ সৃষ্টির কৌশল’, নাকি সত্যি কোনো বড় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন? গোটা বিশ্বের নজর এখন নীল জলরাশির ওপর।