মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামার মাঝেই এক চরম পদক্ষেপ নিল ইরান। বুধবার সকালে তেহরানে এক সুইডিশ নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের পারদ চড়তে শুরু করেছে।
অভিযোগ কী ছিল? ইরানের বিচারবিভাগীয় সংবাদ সংস্থা ‘মিজান অনলাইন’-এর দাবি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই ব্যক্তির নাম কুরুশ কায়ভানি। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল:
-
তিনি ইজরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা ‘মোসাদ’-এর হয়ে চরবৃত্তি করছিলেন।
-
গত বছরের জুন মাসে ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে চলা ১২ দিনের যুদ্ধের সময় তিনি ইরানের অতি সংবেদনশীল এলাকার ছবি এবং তথ্য পাচার করেছিলেন।
-
ইরানের দাবি অনুযায়ী, কায়ভানি অন্তত ছয়টি ইউরোপীয় দেশ এবং তেল আবিবে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।
সুইডেনের তীব্র প্রতিক্রিয়া এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছে সুইডেন সরকার। সুইডিশ বিদেশমন্ত্রী মারিয়া মালমার স্টেনারগার্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন:
“আমরা অত্যন্ত মর্মাহত। এটি একটি অমানবিক ও নিষ্ঠুর সাজা। আমরা শুরু থেকেই এই বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলাম, কিন্তু ইরান তা গ্রাহ্য করেনি।”
প্রতিবাদে স্টকহোমে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে সুইডেন সরকার। সুইডিশ প্রশাসনের দাবি, এই বিচারপ্রক্রিয়া আইনত সঠিক ছিল না এবং এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
যুদ্ধের আবহে নতুন সংকট গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েল ও আমেরিকার হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতার মৃত্যুর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্য কার্যত আগ্নেয়গিরির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় দেশের নাগরিককে ফাঁসি দেওয়ার ঘটনা ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের সংঘাতকে আরও উসকে দিতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।