মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক সংঘাতের জেরে এবার সরাসরি সংকটে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ ‘হরমুজ প্রণালী’। এই সংকীর্ণ অথচ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়সড় ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগের, কারণ ভারতের জ্বালানি তেল এবং সারের জোগানের একটি বিশাল অংশ এই পথ দিয়েই আসে।
পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের মোট খনিজ তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এবং এলএনজি-র এক-তৃতীয়াংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ওমান এবং ইরানের মধ্যবর্তী এই জলপথটি বন্ধ হওয়ার অর্থ হলো বিশ্ববাজারে তেলের আকাল। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি দীর্ঘ সময় এই পথ অবরুদ্ধ থাকে, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যপকভাবে বৃদ্ধি পাবে। যার সরাসরি প্রভাব পড়বে ভারতের পেট্রোল ও ডিজেলের দামে। পরিবহন খরচ বাড়লে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।
জ্বালানি ছাড়াও ভারত এই পথ দিয়ে প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিক সার এবং প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করে। কৃষিনির্ভর ভারতের জন্য সারের জোগান ব্যাহত হওয়া মানে খাদ্য সুরক্ষায় টান পড়া। কেন্দ্রীয় সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রক ইতিমধ্যেই বিকল্প পথের সন্ধান শুরু করেছে, তবে হরমুজ প্রণালীর মতো সুলভ ও দ্রুতগামী বিকল্প খুঁজে পাওয়া কার্যত অসম্ভব। আপাতত দিল্লির নজর পরিস্থিতির দিকে। যদি দ্রুত এই কূটনৈতিক জট না কাটে, তবে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।