মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির আঁচ এবার সরাসরি ভারতের রান্নাঘরে। ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার বড়সড় প্রভাব পড়ল ভারতের এলপিজি (LPG) বা রান্নার গ্যাসের ওপর। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে এক ধাক্কায় ১৩ শতাংশ কমে গিয়েছে রান্নার গ্যাসের ব্যবহার। যা সাধারণ মধ্যবিত্তের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া করেছে।
কেন এই পতন? অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রান্নার গ্যাসের এই বিপুল পরিমাণ ব্যবহার হ্রাসের পেছনে মূলত দুটি কারণ রয়েছে:
জোগান সংকট: ভারতের এলপিজি আমদানির একটি বিশাল অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি থেকে। লোহিত সাগরে অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার কারণে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, ফলে জোগানে টান পড়েছে।
দাম বাড়ার আতঙ্ক: আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম বাড়ার সাথে সাথে এলপিজি-র দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে অনেক পরিবারই খরচ কমাতে গ্যাসের ব্যবহার সীমিত করে দিচ্ছেন।
হেঁশেলে টান: গত কয়েক মাসে রান্নার গ্যাসের দাম এমনিতেই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছে। তার ওপর এই ১৩ শতাংশ ব্যবহার কমার অর্থ হল— বহু মানুষ হয় বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকছেন, অথবা অত্যন্ত হিসেব করে গ্যাস খরচ করছেন। উৎসবের মরসুমের আগে এই পতন খুচরো বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সরকারি পদক্ষেপ: কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক বিকল্প দেশগুলি থেকে গ্যাস আমদানির কথা ভাবছে যাতে ঘরোয়া বাজারে সিলিন্ডারের জোগান স্বাভাবিক রাখা যায়। তবে মধ্যপ্রাচ্যের আগুন দ্রুত না নিভলে এই সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে।
উপসংহার: বিশ্বের এক প্রান্তের যুদ্ধ কীভাবে অন্য প্রান্তের সাধারণ মানুষের থালায় প্রভাব ফেলে, রান্নার গ্যাসের এই ব্যবহার হ্রাস তারই এক জ্বলন্ত উদাহরণ। আপাতত মধ্যবিত্তের প্রার্থনা— পরিস্থিতি স্বাভাবিক হোক এবং সিলিন্ডারের দাম যেন সাধারণের সাধ্যের মধ্যে থাকে।





