‘মতুয়ারা অবৈধ হলে প্রধানমন্ত্রীও অবৈধ!’-ঠাকুরবাড়িতে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে ধ্বংসাত্মক চ্যালেঞ্জ অভিষেকের

রাজ্যে এসআইআর (SIR) ইস্যু নিয়ে যখন পারদ চড়ছে, ঠিক তখনই মতুয়া সমাজকে নতুন করে অস্থির করার ‘চক্রান্ত’ হচ্ছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নিশানায় সরাসরি বিজেপি। শুক্রবার ঠাকুরনগরে বড়মার স্মৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে অভিষেক অভিযোগ করেন, উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়ার মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় বিজেপির জনপ্রতিনিধিরাই এখন মতুয়াদের স্বার্থবিরোধী কাজ করছেন।

২০২৩ সালে ঠাকুরবাড়িতে তাঁকে ঢুকতে বাধা দেওয়ার প্রসঙ্গের স্মৃতিচারণ করে অভিষেক বলেন, “এই মন্দিরে আসা আমার অধিকার। গতবার যারা বাধা দিয়েছিল, পঞ্চায়েত ভোটে মানুষ তাদের যোগ্য জবাব দিয়েছে।” তিনি অত্যন্ত কড়া সুরে দাবি করেন, বনগাঁ ও রানাঘাটের বিজেপি নেতারাই আড়ালে বলছেন যে ‘এক লক্ষ মতুয়ার নাম বাদ পড়লে সমস্যা নেই’। অভিষেকের প্রশ্ন, “যে মতুয়ারা ভোট দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে জেতালেন, আজ তাঁদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন কেন? মতুয়ারা যদি অবৈধ হন, তবে তাঁদের ভোটে জেতা প্রধানমন্ত্রীও অবৈধ।” কল্যাণী এমস (AIIMS) এবং ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের কাজ থমকে থাকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ‘রিপোর্ট কার্ড’ পেশ করার চ্যালেঞ্জ জানান তিনি।

অভিষেকের এই ঝোড়ো সফরের পরই নাটকীয় মোড় নেয় ঠাকুরনগর। অভিষেক মন্দির চত্বর ছাড়তেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর ঘোষণা করেন, মন্দির ‘অশুদ্ধ’ হয়েছে এবং তা ‘শুদ্ধিকরণ’ করা হবে। এরপরই কামনাসাগরের জল ছিটিয়ে মন্দির চত্বর ধুয়ে ফেলা হয়। নাটমন্দিরে শুরু হয় তৃণমূল বিরোধী ‘ধিক্কার’ স্লোগান। শান্তনুর পাল্টা তোপ, “মতুয়াদের ধর্মস্থানে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করা সহ্য করা হবে না। প্রধানমন্ত্রী মতুয়াদের জন্য যা করেছেন, তা কেউ করেনি।”

তবে এই রাজনৈতিক মহানাটকের মাঝেই রহস্যজনক ‘নীরবতা’ লক্ষ্য করা গিয়েছে গাইঘাটার বিজেপি বিধায়ক সুব্রত ঠাকুরের বাড়িতে। শান্তনু যখন ময়দানে নেমে পাল্টা প্রচারে ব্যস্ত, তখন তাঁরই দাদা সুব্রত ঠাকুরকে সারা দিন ঠাকুরনগরে দেখা যায়নি। মতুয়া রাজনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ দিনে বিধায়কের এই রহস্যময় অনুপস্থিতি এখন জেলা রাজনীতির অন্দরে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy