একদিকে বন্ধু চিন-রাশিয়া, অন্যদিকে পশ্চিমী দুনিয়া! ব্রিকসের মঞ্চে ভারতের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ কী?

রাজধানী দিল্লিতে শুরু হওয়া ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন ভারতের জন্য কেবল একটি আন্তর্জাতিক মেগা ইভেন্টই নয়, বরং এটি দেশের কূটনীতির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। বিশ্ব রাজনীতি যখন চরম মেরুকরণের মুখে দাঁড়িয়ে, ঠিক সেই সময়ে ব্রিকসের অভ্যন্তরে থাকা পরস্পরবিরোধী স্বার্থগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে ঐক্যমত তৈরি করাই এখন নয়াদিল্লির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
রাশিয়া ও চিন ব্রিকসের প্রধান স্তম্ভ হলেও ভারতের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের সমীকরণ বেশ জটিল। একদিকে মস্কোর সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি অংশীদারিত্ব রয়েছে, অন্যদিকে চিনের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধ থাকা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক ও বহুপাক্ষিক স্তরে সংলাপ বজায় রাখতে হচ্ছে ভারতকে। ভারতের মূল লক্ষ্য হলো, ব্রিকস মঞ্চটি যেন কোনো একক দেশ বা নির্দিষ্ট কোনো শিবিরের হাতিয়ারে পরিণত না হয়। পাশাপাশি, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোও ভারতের প্রধান অংশীদার। তাই ব্রিকসের অন্দরে কোনো রকম পশ্চিমা-বিরোধী মনোভাব মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে তা সামলানো দিল্লির কাছে অত্যন্ত কঠিন এক কাজ।
এরই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পশ্চিম এশিয়ার জটিল পরিস্থিতি। ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি উভয়ই ব্রিকস ভুক্ত দেশ হলেও বর্তমান আঞ্চলিক সংকট নিয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ আলাদা। এমনকি মে মাসে অনুষ্ঠিত ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে পশ্চিম এশিয়া ইস্যু নিয়ে কোনো যৌথ বিবৃতিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। একদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সম্পর্ক এবং অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে চাবাহার বন্দরসহ নানা কৌশলগত স্বার্থ রক্ষা করা—সব মিলিয়ে দ্বিমুখী নীতি বজায় রাখা সহজ নয়।
সব মিলিয়ে, দিল্লি ব্রিকস সম্মেলনে ভারতের আসল সাফল্য কেবল একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে পৌঁছানোই নয়, বরং এটি প্রমাণ করা যে, মস্কো ও বেজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেই ওয়াশিংটন, ইউরোপ এবং পশ্চিম এশিয়ার বৈরী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে একই সুতোয় সফলভাবে কূটনীতি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।