ভোররাতে কান ফাটানো শব্দে কেঁপে উঠল হলদিয়া! পেট্রোকেম বিস্ফোরণে আশঙ্কাজনক ২

মঙ্গলবার ভোররাতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কেঁপে উঠল শিল্পশহর হলদিয়া। হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের একটি পাইপলাইনে আচমকা বিকট বিস্ফোরণ ঘটলে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে হলদিয়া পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের চিরঞ্জীবপুর এলাকায়। অগ্নিকাণ্ডে বেশ কয়েকটি বাড়ি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে এবং অন্তত ১৫ জন গুরুতর অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন।

ভোরবেলার আতঙ্ক:
মঙ্গলবার ভোরে আচমকা কান ফাটানো শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে শুরু করে পার্শ্ববর্তী বাড়িগুলোতে। প্রাণ বাঁচাতে স্থানীয়রা ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের ১২টি ইঞ্জিন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন দমকলকর্মীরা। আহতদের উদ্ধার করে হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

আহতদের অবস্থা ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া:
ভবানীপুর থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৫ জন আহতকে উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের তমলুক মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়। তাঁদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক বলে জানা গেছে। এদিন সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছান হলদিয়া বিধানসভার বিধায়ক প্রদীপ বিজলি। তিনি জানান, “পাইপলাইন লিক করে ন্যাপথা বেরিয়ে যাওয়ায় এই বিধ্বংসী বিস্ফোরণ ঘটে।”

প্রশাসনের তদন্ত ও প্রতিক্রিয়া:
কীভাবে এত বড় বিস্ফোরণ ঘটল, তা নিয়ে আপাতত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চলছে। জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার জানিয়েছেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনই বলা সম্ভব নয়। হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমাদের প্রধান লক্ষ্য এখন ক্ষতিগ্রস্তদের সুরক্ষা ও পরিস্থিতির মোকাবিলা করা।”

ব্যাহত রেল পরিষেবা:
বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে কারখানার পাশ দিয়ে যাওয়া রেললাইনের ওভারহেড তার ও ট্রান্সফর্মার সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। রেললাইনের বেশ কিছুটা অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওই শাখায় ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। হলদিয়া-হাওড়াগামী প্যাসেঞ্জার ট্রেন আটকে পড়ায় চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন নিত্যযাত্রীরা। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে রেল কর্তৃপক্ষ মেরামতির কাজ শুরু করেছে। শিল্পশহরের এই ঘটনায় এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।