ভোপালে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! সেলাই মেশিনের তেল গিলে মৃত্যু দেড় বছরের শিশুকন্যার!

মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালের গৌতম নগর থানা এলাকার করিম বখশ কলোনিতে এক হৃদয়বিদারক ও মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। খেলাধুলা করার সময় ভুলবশত সেলাই মেশিনের ক্ষতিকারক তেল পান করে ফেলায় দেড় বছরের এক নিষ্পাপ শিশুকন্যার করুণ মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গত এক মাস ধরে শিশুটি তার মায়ের সঙ্গে নানাবাড়িতে অবস্থান করছিল। এই আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে পরিবারটি শোকাচ্ছন্ন অবস্থায় ময়নাতদন্ত করাতে অস্বীকৃতি জানালেও, পুলিশের পক্ষ থেকে আইনি প্রক্রিয়া ও গুরুত্ব বোঝানোর পর তারা শেষ পর্যন্ত রাজি হয়। বর্তমানে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন পুরো ঘটনাটি নিবিড়ভাবে তদন্ত করে দেখছে।
গৌতম নগর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহেন্দ্র সিং ঠাকুর সংবাদ মাধ্যমকে জানান যে, মৃত শিশুকন্যা হানিয়া খানের বাবা ইমরান খান উত্তরপ্রদেশের লখনউ শহরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তাঁর স্ত্রী সম্প্রতি যমজ সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ভোপালের করিম বখশ কলোনিতে নিজের পিত্রালয়ে বেড়াতে এসেছিলেন। সেখানেই এই মর্মান্তিক বিপত্তি ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ই জুলাই রাতে শিশুটির মা যখন ঘরে বসে অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে সেলাই মেশিনের কাজ করছিলেন, ঠিক সেই সময়ে তাঁর যমজ সন্তানরা ঘরের ভেতরেই খেলাধুলা করছিল। খেলার ছলে ছোট শিশু হানিয়া সেলাই মেশিনের তেলের একটি খোলা বোতল হাতে তুলে নেয় এবং কৌতূহলবশত সেটি পান করে ফেলে। সেই মুহূর্তে ঘরের কাজের ব্যস্ততার কারণে পরিবারের কেউ বিষয়টি লক্ষ্য করতে পারেননি।
কিছুক্ষণ পরেই শিশুটির শারীরিক অবস্থার আকস্মিক ও মারাত্মক অবনতি শুরু হয়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা অবিলম্বে তার চিকিৎসা শুরু করেন। সৌভাগ্যবশত প্রথম দুই দিন তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা গেলেও, পরবর্তীতে হঠাৎ করেই তার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে।
অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়লে গত ১৮ই জুলাই সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে পুরো বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করে। অবশেষে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ১৯শে জুলাই রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই শিশুটি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। আকস্মিক এই শোকে ভেঙে পড়া পরিবারটি প্রথমে ময়নাতদন্ত করাতে একেবারেই অনিচ্ছুক ছিল। তবে পুলিশ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিবারের লোকজনকে আইনি বাধ্যবাধকতা ও এর প্রয়োজনীয়তা বিস্তারিতভাবে বুঝিয়ে বললে তারা রাজি হয়। এরপর পুলিশ একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, সেলাই মেশিনের তেল মূলত এক ধরণের হাইড্রোকার্বন রাসায়নিক পদার্থ। কোনো শিশু ভুলবশত এটি খেয়ে ফেললে, তাকে তৎক্ষণাৎ জোর করে বমি করানোর চেষ্টা করা সবচেয়ে বড় এবং মারাত্মক ভুল। বমি করানোর সময় এই বিষাক্ত তেলটি শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করে রাসায়নিক নিউমোনাইটিস বা ফুসফুসের মারাত্মক প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। এই জটিল শারীরিক অবস্থাটি ক্ষেত্রবিশেষে এতটাই মারাত্মক হয়ে ওঠে যে তা শিশুদের ক্ষেত্রে প্রাণঘাতীও হতে পারে। চিকিৎসকদের এই সতর্কবার্তা প্রতিটি অভিভাবকের জন্য একটি বড় বার্তা হয়ে উঠেছে, যা ঘরে ছোট শিশু থাকাকালীন বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্টভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়।