ভোপালের আইশবাগ জোড়া খুনে এআই-এর ম্যাজিক! পুলিশের ফাঁদে পা দিয়েই ধরা পড়ল ঘাতক

ভোপালের চাঞ্চল্যকর আইশবাগ জোড়া খুনের মামলার রহস্য উন্মোচন করল পুলিশ। গত ২৪ জুন ৭০ বছর বয়সী হেমন্ত ফিলেমন এবং তাঁর স্ত্রী শকুন্তলাকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি)। এই মামলায় পুলিশের তদন্তের কৌশল এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে, যেখানে প্রথমবারের মতো অপরাধীদের বিভ্রান্ত করতে ব্যবহার করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)।
তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এআই-এর মাধ্যমে এমন কিছু স্কেচ তৈরি করে প্রকাশ্যে আনে, যেখানে অভিযুক্তদের আসল মুখের বৈশিষ্ট্য কিছুটা বিকৃত করে দেওয়া হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল অপরাধীদের এই ধারণা দেওয়া যে, পুলিশ তদন্তের ভুল পথে হাঁটছে। এই কৌশলে কাজ হয়—মূল অভিযুক্ত শ্রীকান্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে শহর ছেড়ে পালানোর ঝুঁকি নেয়নি। উল্টে সে স্বাভাবিক জীবনযাপন চালিয়ে যেতে থাকে। পুলিশের এই সুযোগটিই কাজে লাগিয়ে এসআইটি ডিজিটাল নজরদারি জোরদার করে।
হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশ মোট ২৪টি ভিন্ন দিকে নজর দেয়। সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদ, জাল দানপত্র, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নথিপত্র থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিটি, সিসিটিভি ফুটেজ ও কল ডিটেইল রেকর্ড (CDR)—সবকিছুই সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেয় ফোনের সিডিআর। পুলিশ লক্ষ করে যে, শ্রীকান্ত ঘটনার সময় শিবানী নামক এক ব্যক্তির সঙ্গে ৩০০ বারেরও বেশি কথা বলেছে, অথচ মৃত শকুন্তলাকে সে একবারও ফোন করেনি। এই অসঙ্গতি পুলিশের সন্দেহকে নিশ্চিত তথ্যে রূপান্তর করে।
সবচেয়ে নাটকীয় ব্যাপার হলো, হত্যাকাণ্ডের পর শ্রীকান্ত নির্লিপ্তভাবে মর্গে হাজির হয়েছিল এবং দম্পতির শেষকৃত্য পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছিল। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা সেই নীল রঙের রহস্যময় গাড়িটিও তার বলেই শনাক্ত করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশ যখন তার সামনে সিডিআর, ডিজিটাল লেনদেনের প্রমাণ এবং সিসিটিভি ফুটেজ তুলে ধরে, তখন দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা জেরার মুখে সে ভেঙে পড়ে। সে স্বীকার করে যে, তার ভাই শশীকান্তের সঙ্গে যোগসাজশ করেই সে এই জোড়া খুনের ছক কষেছিল।
নিজেদের নামে ওই দম্পতির বাড়িটি হস্তান্তরের জন্যই এই জাল দানপত্র ও খুনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। দুই অভিযুক্তের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অপরাধে ব্যবহৃত দুটি পিস্তল ডুবুরিদের সহায়তায় বড়া তালাব (লেক) থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, যা বর্তমানে সাগর ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও পুলিশের বুদ্ধিমত্তায় একটি দীর্ঘমেয়াদী আইনি জট খোলার পথ প্রশস্ত হলো।