ভোট লুণ্ঠনের প্রহসন চলছে’, জাতীয় ভোটার দিবসেই কেন বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী? জানুন বিশদে

দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘জাতীয় ভোটার দিবস’। কিন্তু এই বিশেষ দিনেই নির্বাচন কমিশনকে (ECI) নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিশনকে বিজেপির ‘প্রভুর আজ্ঞাবহ দাস’ (His Master’s Voice) বলে কটাক্ষ করে তিনি সাফ জানালেন, এই দিনটি পালন করা বর্তমানে একটি ‘দুঃখজনক প্রহসন’ ছাড়া আর কিছুই নয়।

বিস্ফোরক অভিযোগ মমতার

রবিবার নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি দীর্ঘ পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করার বদলে তা কেড়ে নিতে বেশি ব্যস্ত। তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র দোহাই দিয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে।

মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান অভিযোগগুলি হলো:

  • NRC-র ছায়া: চলমান বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়াকে কার্যত ‘এনআরসি ট্রায়াল’-এ পরিণত করা হয়েছে।

  • টার্গেট সংখ্যালঘু ও তফশিলি: বিশেষ করে সংখ্যালঘু, তপশিলি জাতি ও উপজাতিদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।

  • অমানবিক হয়রানি: ৮৫-৯০ বছরের বৃদ্ধ বা শারীরিক প্রতিবন্ধীদের সশরীরে হাজির হওয়ার সমন পাঠানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত অমানবিক।

১৩-র মৃত্যু ও ‘হিজ মাস্টার্স ভয়েস’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও দাবি করেন যে, কমিশনের এই হয়রানি এবং মানসিক চাপের জেরে রাজ্যে ইতিমধ্যেই ১৩০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর মতে, কমিশন এখন নিরপেক্ষতা হারিয়ে দিল্লির অঙ্গুলিহেলনে কাজ করছে।

“আপনাদের স্পর্ধা দেখুন, মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে আপনারাই আবার ভোটার দিবস পালন করছেন! এই উৎসব পালন করার কোনও নৈতিক অধিকার আপনাদের নেই,” তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে লেখেন মুখ্যমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকায় ‘SIR’ প্রক্রিয়া এবং নাম বাদ যাওয়া নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই সরব তৃণমূল কংগ্রেস। মাইক্রো-অবজার্ভার পাঠিয়ে মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন তিনি। আজকের এই আক্রমণ সেই সংঘাতকে এক নতুন মাত্রা দিল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy