১৯৯০ সালে যখন ইরাকে মার্কিন আগ্রাসন শুরু হয়, তখন ভারতের দক্ষিণে কেরলের রাস্তায় নেমেছিল জনস্রোত। সাদ্দাম হোসেনের সমর্থনে উত্তাল হয়ে উঠেছিল গোটা রাজ্য। বামপন্থী থেকে শুরু করে মুসলিম লিগ—সব পক্ষই সাদ্দামকে ‘সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী নায়ক’ হিসেবে তুলে ধরেছিল। কিন্তু আজকের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ইজরায়েল-ইরান এবং আমেরিকা-আরব উত্তেজনার মাঝে কেরলের রাজনৈতিক দলগুলোর গলায় এখন সাবধানী সুর।
কেরল রাজনীতির এই ‘উপসাগরীয় যোগ’-এর মূলে রয়েছে অর্থনীতি। কেরলের প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কর্মরত। রাজ্যের জিডিপি-র (GDP) একটা বড় অংশ আসে এই প্রবাসী কর্মীদের পাঠানো রেমিট্যান্স থেকে। ফলে পশ্চিম এশিয়ার যেকোনো অস্থিরতা সরাসরি কেরলের প্রতিটি ঘরে প্রভাব ফেলে। ১৯৯০-এর দশকে সাদ্দাম হোসেনকে প্রকাশ্যে সমর্থন দেওয়া যতটা সহজ ছিল, আজকের বিশ্বায়নের যুগে ইজরায়েল বা আমেরিকার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়া ততটাই জটিল। কারণ, এখন সৌদি আরব বা সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর মতো দেশগুলোর সাথে ভারতের বাণিজ্যিক স্বার্থ জড়িয়ে রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেরলের ভোটব্যাঙ্কেও এই উপসাগরীয় সংযোগ অত্যন্ত শক্তিশালী। উত্তর কেরলের মালাবার অঞ্চলে মুসলিম ভোট নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে। সেখানে ধর্মীয় অনুভূতির সাথে জড়িয়ে থাকে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি। অতীতে সাদ্দাম হোসেনকে নিয়ে আবেগী প্রচার করে বাম ও কংগ্রেস উভয়েই ফায়দা লুটতে চেয়েছে। কিন্তু বর্তমানে বিজেপি এই বিষয়টিকে ‘তুষ্টিকরণের রাজনীতি’ হিসেবে দাগিয়ে দেওয়ায় সাবধানী হয়েছে বাম-গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (LDF) এবং সংযুক্ত গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (UDF)। সরাসরি পক্ষ না নিয়ে এখন তারা মানবিকতা এবং বিশ্বশান্তির কথা বলছে। সাদ্দামকে নিয়ে সেই প্রকাশ্য উন্মাদনা আজ কৌশলী নীরবতায় পর্যবসিত হয়েছে, যা কেরলের পরিণত রাজনীতিরই পরিচয় দেয়।