ভোট দিতে গিয়ে ‘পোশাক ফতোয়া’! হাফপ্যান্ট পরায় আটকানো হলো বৃদ্ধকে, শেষে নাতির প্যান্ট ধার করে সারলেন ভোট!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় যখন হেভিওয়েটদের লড়াই নিয়ে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়, ঠিক তখনই ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের একটি বুথে ঘটে গেল এক অভূতপূর্ব ঘটনা। ভোট দিতে গিয়ে ‘পোশাক ফতোয়া’-র মুখে পড়লেন এক বৃদ্ধ। শেষমেশ হাফপ্যান্ট ছেড়ে নাতির ফুলপ্যান্ট পরে এসে তবেই নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলেন তিনি।

ঠিক কী ঘটেছিল? বুধবার দুপুরে ভবানীপুরের এক প্রবীণ ভোটার হাফপ্যান্ট এবং পাঞ্জাবি পরে ভোট দিতে গিয়েছিলেন স্থানীয় একটি বুথে। কিন্তু বুথের প্রবেশপথে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা তাঁকে আটকে দেন বলে অভিযোগ। তাঁকে জানানো হয়, হাফপ্যান্ট পরে বুথের ভেতরে প্রবেশ করা যাবে না। বৃদ্ধ ভোটার বারবার অনুরোধ করলেও নিরাপত্তারক্ষীরা নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকেন।

নাতির প্যান্টই ভরসা: ভোট না দিয়ে বাড়ি ফিরতে নারাজ ছিলেন ওই বৃদ্ধ। কিন্তু এই গরমে পাঞ্জাবির সাথে পরার মতো বিকল্প পোশাকও সাথে ছিল না। শেষে বাড়ি ফিরে গিয়ে নিজের নাতির একটি ফুলপ্যান্ট ধার করেন তিনি। সেই প্যান্ট পরেই ফের বুথে পৌঁছান এবং দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের ভোট দেন।

বিতর্ক ও প্রশ্ন: এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। প্রশ্ন উঠছে, ভারতের নির্বাচন কমিশনের কি এমন কোনো নির্দিষ্ট ‘ড্রেস কোড’ বা পোশাক বিধি আছে? কমিশনের গাইডলাইন অনুযায়ী, ভোটারদের পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক হলেও পোশাক নিয়ে কোনো কড়া নিয়ম নেই। তাহলে কেন ওই বৃদ্ধকে হেনস্থার শিকার হতে হলো, তা নিয়ে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

কমিশনের প্রতিক্রিয়া: বিষয়টি জানাজানি হতেই শোরগোল পড়ে যায়। যদিও স্থানীয় নির্বাচন আধিকারিকদের দাবি, নিরাপত্তাজনিত কোনো বিশেষ নির্দেশের ভুল ব্যাখ্যা হয়ে থাকতে পারে। তবে এই ‘পোশাক বিভ্রাট’ যে ভবানীপুরের ভোটের বাজারে অন্যতম চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy