শুক্রবার ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধরনা মঞ্চে যোগ দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটার তালিকা নিয়ে একগুচ্ছ বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন। তাঁর দাবি, বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) নামে পরিকল্পিতভাবে ১ কোটি ২৪ লক্ষ ভোটারের নামের তথ্যে কারচুপি করা হয়েছে। অভিষেক বলেন, “আমি আগেই বলেছিলাম বিজেপি ভোট চুরির ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করছে, আজ সেই ১.২৪ কোটির হিসেব মিলে গেল।”
অভিষেকের অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে বেছে বেছে বিরোধী সমর্থকদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে দাবি করেন, রাজ্যে প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষের নাম ‘অ্যাজুডিকেশন’ বা বিচারাধীন তালিকায় ফেলে রাখা হয়েছে, যা আসলে তাঁদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার একটি অপকৌশল। অভিষেক আরও বলেন, “এমনকি নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ থেকে শুরু করে জাতীয় দলের ক্রিকেটার—কারও নাম বাদ দিতে ছাড়েনি কমিশন। এটা স্রেফ যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।”
এদিন ধরনা মঞ্চ থেকে অভিষেক সাফ জানিয়ে দেন, বাংলার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় তৃণমূল এক ইঞ্চিও জমি ছাড়বে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে বুথ স্তরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই ‘কারচুপি’র বিরুদ্ধে লড়াই চালাবে দল। নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্য করে তাঁর বার্তা, “ভোটাররা সরকারকে বেছে নেবে, সরকার যেন ভোটার বেছে নেওয়ার চেষ্টা না করে।” ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ভোটার তালিকা বিতর্ক যে শাসক-বিরোধী সংঘাতকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য।