ভোটে কারচুপি রুখতে ব্রহ্মাস্ত্র কমিশনের! নাকা চেকিং থেকে জওয়ানের গতিবিধি—সবই হবে ‘লাইভ টেলিকাস্ট’

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলায় নজিরবিহীন নিরাপত্তার ছক সাজালো নির্বাচন কমিশন। ভোট লুঠ বা অশান্তি রুখতে এবার প্রযুক্তিতেই ভরসা রাখছেন দিল্লির কর্তারা। এই প্রথম রাজ্যের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ নাকা চেকিং পয়েন্টে সরাসরি ‘লাইভ স্ট্রিমিং’ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, নাকা পয়েন্টে কী ঘটছে, তা রিয়েল টাইমে দেখতে পাবেন কমিশনের আধিকারিকরা।

অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার: PTZ ও বডি ক্যামেরা
কমিশন সূত্রে খবর, নজরদারিতে কোনো ফাঁক রাখতে চাইছে না তারা। এর জন্য ব্যবহার করা হবে দুই ধরণের বিশেষ ক্যামেরা:

PTZ (Pan-Tilt-Zoom) ক্যামেরা: কেন্দ্রীয় বাহিনীর গাড়িতে বসানো থাকবে এই হাই-টেক ক্যামেরা। এটি ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরতে পারে এবং যেকোনো চলমান বস্তুকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্র্যাক (Track) করতে সক্ষম।

বডি ক্যামেরা: নাকা চেকিং এবং রুট মার্চের সময় জওয়ানদের শরীরে লাগানো থাকবে এই ক্যামেরা। প্রতিটি কোম্পানিতে ২-৩টি করে বডি ক্যামেরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে জওয়ানদের গতিবিধি এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাদের ব্যবহার—সবই ক্যামেরাবন্দি থাকবে।

বুথে বুথে নিরাপত্তার কড়াকড়ি
নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ইতিমধ্যেই ‘হিংসা-মুক্ত’ নির্বাচনের ডাক দিয়েছেন। সেই লক্ষ্যে একগুচ্ছ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে:

বিশাল বাহিনী: ভোট ঘোষণা থেকে গণনা (৪ মে) পর্যন্ত রাজ্যে মোতায়েন থাকবে রেকর্ড ২০০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী।

বুথ ভিত্তিক সুরক্ষা: একটি বুথ থাকলে সেখানে হাফ সেকশন (৪ জন) এবং দুটি বুথ থাকলে এক সেকশন (৮ জন) সশস্ত্র জওয়ানি মোতায়েন থাকবেন।

রুট মার্চ: ইতিমধ্যেই ৪৮০ কোম্পানি বাহিনী জেলায় জেলায় রুট মার্চ শুরু করে দিয়েছে।

ইতিমধ্যেই জেলাশাসকদের প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরির নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। কোন জেলায় কত বাহিনী থাকবে, সেই তালিকাও দ্রুত চূড়ান্ত হতে চলেছে। কমিশনের লক্ষ্য একটাই—উৎসবের মেজাজে এবং পুরোপুরি শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy