বন্ধ হচ্ছে ২৫২টি মাদ্রাসা? দিলীপ ঘোষের বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক নীতি নিয়ে ফের একবার রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। সোমবার রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ অত্যন্ত কড়া ভাষায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে রাজ্যে কোনোভাবেই বেআইনিভাবে কোনো মাদ্রাসা চালানো যাবে না। স্পষ্ট ভাষায় তাঁর হুংকার, একমাত্র সরকারি অনুমোদন বা বৈধ অনুমতি থাকলেই তবেই কোনো প্রতিষ্ঠান তার কার্যক্রম চালাতে পারবে। পাশাপাশি বিগত কুড়ি বছর ধরে চলা মাদ্রাসা সংক্রান্ত নানান বিতর্ক ও উদ্বেগের অবসান ঘটিয়ে তিনি কড়া হাতে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জোরালো আশ্বাস দিয়েছেন।

এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে বলেন যে কোনো ধরনের বেআইনি কার্যকলাপ বিন্দুমাত্র বরদাস্ত করা হবে না। যেখানে সরকারি কোনো অনুমতি বা বৈধ কাগজপত্র নেই, সেখানে কোনো ধরনের কাজকর্ম চলতে পারে না। যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সত্যিই প্রতিষ্ঠান চালাতে চায়, তবে তাদের অবশ্যই সরকারের কাছ থেকে যথাযথ অনুমতি নিতে হবে। যাদের কাছে সম্পূর্ণ বৈধ অনুমতি রয়েছে, শুধুমাত্র তারাই আইনসম্মতভাবে নিয়ম মেনে চলতে পারবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও যোগ করেন যে মাদ্রাসার বিভিন্ন কার্যক্রম ও পরিকাঠামো নিয়ে বহু দিন ধরেই নানা সন্দেহ ও প্রশ্নচিহ্ন রয়েছে। এটি আজ নতুন কোনো বিষয় নয়, বরং গত কুড়ি বছর ধরে এই সমস্যা রাজ্যজুড়ে চলে আসছে। বহু রাজনৈতিক নেতা অতীতে এই নিয়ে বারবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেও কেউ সুনির্দিষ্ট কোনো সমাধান করতে পারেনি। তবে বর্তমান সরকার এই জটিল সমস্যার স্থায়ী ও কার্যকরী সমাধান করবে বলে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজ্যজুড়ে ইসলামিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর ব্যাপক পর্যালোচনার অংশ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার মোট ২৫২টি মাদ্রাসাকে বন্ধের কড়া নোটিশ জারি করেছে। ঠিক এই আবহেই দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

অন্যদিকে, এই প্রশাসনিক ও শিক্ষাগত বার্তার মাঝেই রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন ও একাধিক বড় প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে মুখ খুলেছেন বিশিষ্ট নেতা শুভেন্দু অধিকারী। গত শুক্রবার এক বিশেষ বক্তব্যে তিনি রাজ্য সরকারের গত চার মাসের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি জানান যে এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই রাজ্যে বেশ কিছু চোখে পড়ার মতো ঐতিহাসিক উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার একটি সুবৃহৎ মেগা প্রকল্প, ৬০০ কোটি টাকার একটি বিশাল আমুল প্ল্যান্ট এবং রাজ্যের অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে একটি অত্যাধুনিক রোবটিক ফায়ার-ফাইটিং সিস্টেম।

শুভেন্দু অধিকারীর দাবি অনুযায়ী, গনগনিতে একটি বিশেষ প্রকল্পের জন্য প্রায় ৭০০ কোটি টাকার বড় বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি মিলেছে। পাশাপাশি, অত্যন্ত দুর্গম ও ঘিঞ্জি এলাকায় যেখানে সাধারণ দমকলের বড় গাড়ি চাইলেও সহজে পৌঁছাতে পারে না, সেই সমস্ত সংকটজনক জায়গায় দ্রুত আগুন নেভানোর কাজে এই রোবটিক ফায়ার-ফাইটিং সিস্টেম যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে। পরিকাঠামো উন্নয়ন থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়মের কড়াকড়ি—সব মিলিয়ে রাজ্যবাসীর নজর এখন এই বড় সিদ্ধান্তের বাস্তবায়নের দিকেই।