ঘরে ঘরে জ্বরের হাহাকার! মুর্শিদাবাদ থেকে বাঁকুড়া, কোন মারাত্মক ভুল এড়াতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

রাজ্যজুড়ে ফের নতুন করে চোখ রাঙাতে শুরু করেছে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গি। উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গ—একাধিক জেলায় লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ, মালদা, নদিয়া ও বাঁকুড়ার বিভিন্ন প্রান্তে ঘরে ঘরে জ্বর ও শারীরিক অসুস্থতার খবর মিলছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে চরম সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্য দফতরের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডেঙ্গি আক্রান্তের নিরিখে বর্তমানে শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা। নওদা ও রঘুনাথগঞ্জ ২ নম্বর ব্লকে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমতলা গ্রামীণ হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে বহু রোগী ভর্তি রয়েছেন। অন্যদিকে, মালদার ইংরেজবাজারের সুভাষপল্লী বা নেতাজি কলোনির মতো ঘিঞ্জি এলাকাগুলিতেও মশার উপদ্রব এবং ডেঙ্গির প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বাঁকুড়া জেলাতেও আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় একশোর কাছাকাছি পৌঁছেছে। বাঁকুড়ার ডেপুটি সিএমওএইচ সজল বিশ্বাস জানান, দেরিতে বর্ষা নামার কারণে এবার ডেঙ্গির বিস্তার ঘটার সম্ভাবনা অনেকটাই বেশি। তাই যথাযথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে।

এই বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ডেঙ্গির চিকিৎসায় কী করণীয়, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন বিশিষ্ট শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অপূর্ব ঘোষ। তিনি জানান, ডেঙ্গি থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো সঠিক প্রতিরোধ বা প্রিভেনশন। অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি সতর্ক করে বলেন যে অনেকেই মনে করেন জ্বর থাকা অবস্থাতেই বোধহয় রোগী সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে, কিন্তু আসল বিপদ লুকিয়ে থাকে জ্বর নেমে যাওয়ার পরের সময়টিতে। প্রথমবার ডেঙ্গিতে গুরুতর অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা কম থাকলেও, দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হলে জ্বর কমে যাওয়ার পর রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতে, জ্বর নেমে যাওয়ার পর রোগীর প্রস্রাবের পরিমাণ ঠিকঠাক হচ্ছে কি না, তার পেটে কোনো তীব্র ব্যথা অনুভব হচ্ছে কি না বা সে কেমন রয়েছে—এই বিষয়গুলি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করা দরকার। এগুলি মূলত ডেঙ্গি শক সিন্ড্রোমের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে, যা অবহেলা করলে বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতর হাত গুটিয়ে বসে নেই। প্রতিটি জেলায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতনতা প্রচার চালানো হচ্ছে যাতে কোথাও মশার লার্ভা জন্মাতে না পারে। চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গির সংক্রমণ এড়াতে সবার আগে প্রয়োজন ব্যক্তিগত ও পারিপার্শ্বিক সচেতনতা। জমা জল জমতে না দেওয়া এবং মশারি ব্যবহার করার পাশাপাশি একটু সচেতন হলেই এই মারণ রোগকে সহজে প্রতিহত করা সম্ভব। তাই সামান্য জ্বর বা গা-হাতি পায়ে ব্যথাকে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।