ভোটের মুখে মাস্টারস্ট্রোক না কি পরিকল্পিত চাল? বোসের বিদায় ও রবির আগমনে কাঁপছে নবান্ন!

২০২৬-এর মহাযুদ্ধের ঠিক দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজভবনে আমূল রদবদল। রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের আকস্মিক ইস্তফা এবং তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল আর এন রবির নাম বাংলার জন্য ঘোষণা করা—এই জোড়া ঘটনায় নতুন সমীকরণের গন্ধ পাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। শুক্রবার এই খবর চাউর হতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। আনন্দ বোসের সঙ্গে নবান্নের সম্পর্ক গত কয়েক মাসে সাপে-নেউলে হলেও, আর এন রবির মতো ‘কড়া’ ব্যক্তিত্বের আগমনে তৃণমূল শিবির যে যথেষ্ট উদ্বেগে, তা স্পষ্ট।

তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, নির্বাচনের ঠিক আগে এই রদবদল কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল থাকাকালীন স্টালিন সরকারের সঙ্গে আর এন রবির সংঘাত ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। বিল আটকে রাখা থেকে শুরু করে রাজ্য সরকারের কাজে হস্তক্ষেপ—একাধিক অভিযোগে বিদ্ধ ছিলেন তিনি। তৃণমূলের মুখপাত্রদের মতে, বঙ্গ বিজেপি এবং দিল্লি মিলে পরিকল্পিতভাবে এক ‘সংগ্রামী’ রাজ্যপালকে পাঠাচ্ছে, যাতে নির্বাচনের আগে এবং পরে নবান্নের ওপর চাপ বাড়ানো যায়। বিশেষ করে ভোটার তালিকা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ধরনা চলাকালীন এই সিদ্ধান্তকে ‘চাপের রাজনীতি’ হিসেবেই দেখছে শাসক দল।

অন্যদিকে, রাজ্য বিজেপি এই নিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছে। সুকান্ত মজুমদারের দাবি, সংবিধান মেনে রাষ্ট্রপতি রাজ্যপাল নিয়োগ করেছেন, এতে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জগদীপ ধনখড়ের সময় রাজভবন ও নবান্নের মধ্যে যে ধরণের সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, আর এন রবির আগমনে সেই পরিস্থিতিই ফিরে আসতে পারে। ভোটের প্রাক্কালে রাজভবনের রাশ হাতে নেওয়ার এই প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে নবান্ন যে আইনি এবং রাজনৈতিক—উভয় পথেই লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, ‘রবি’র উপস্থিতিতে বাংলার রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হয় না কি নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি হয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy