বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগেই বাঁকুড়ার কালপাথর গ্রাম পঞ্চায়েতের কুশতোড়া গ্রামে শাসকদল তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ভাঙন। এলাকার তৃণমূল বুথ সভাপতি নন্দলাল শীটসহ প্রায় শতাধিক কর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। এই যোগদান ঘিরে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।
দলবদলুদের বিজেপিতে স্বাগত জানানোর আগে বাঁকুড়ার বিজেপি বিধায়ক নীলাদ্রী শেখর দানা এক অভিনব পন্থা অবলম্বন করেন। উত্তরপ্রদেশের কুম্ভ থেকে আনা গঙ্গার জল দলবদলুদের গায়ে ছিটিয়ে তাঁদের ‘শুদ্ধিকরণ’ করা হয় এবং হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় পবিত্র গীতা। এরপরই তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিজেপির পতাকা। দলবদলু বুথ সভাপতি নন্দলাল শীটের দাবি, কৃষিপ্রধান গ্রামে দীর্ঘদিনের সেচের পুকুর খননের দাবি পূরণ না হওয়াতেই তাঁরা তৃণমূল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
অন্যদিকে, এই দাবিকে উড়িয়ে দিয়েছে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। বাঁকুড়া জেলা কমিটির সদস্য মধুসূদন ডাঙর দাবি করেন, “যাঁরা যোগ দিয়েছেন, তাঁরা আমাদের দলের কোনো কর্মীই নন। ভোটের আগে বিজেপি কেবল নাটক করছে।” তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কুশতোড়া গ্রাম পঞ্চায়েত দীর্ঘ দিন ধরেই তৃণমূল-বিজেপির হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের কেন্দ্র। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি এগিয়ে থাকলেও, ২০২১ বিধানসভা ও ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে এই এলাকায় তৃণমূল তাদের আধিপত্য বজায় রেখেছিল। এবার সেই ‘ভোটব্যাঙ্কে’ বিজেপি থাবা বসাতে পারায় বাঁকুড়ার রাজনীতির সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।