২০২৬-এর হাইভোল্টেজ নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই রাজ্যে ফের সক্রিয় নির্বাচন কমিশন। মুর্শিদাবাদের ফরাক্কায় বিডিও অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় এবার সরাসরি তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিল কমিশন। গত ১৪ জানুয়ারি ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (SIR) চলাকালীন ফরাক্কা বিডিও অফিসে যে তাণ্ডব চলেছিল, সেই ঘটনায় অভিযুক্ত বিধায়ক মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর (FIR) দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিকেল ৫টার মধ্যে চরম সময়সীমা
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে মুর্শিদাবাদের জেলাশাসককে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। আজ বিকেল ৫টার মধ্যেই এফআইআর সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছে কমিশন। উল্লেখ্য, গত ১৪ জানুয়ারি বিএলও-দের বিক্ষোভ চলাকালীন তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম ও তাঁর অনুগামীরা বিডিও অফিসে ঢুকে ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ ওঠে। সরকারি দপ্তরে এই ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না, কমিশনের এই নির্দেশে তা স্পষ্ট।
প্রশিক্ষণে নামছেন রোল অবজার্ভাররা
একদিকে যখন ভাঙচুর কাণ্ডে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, অন্যদিকে আজই রাজ্যের ৩৩ জন রোল অবজার্ভারকে নিয়ে বৈঠকে বসছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ কুমার আগরওয়াল। ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে স্বচ্ছতা আনতে তাঁদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আজ সন্ধ্যা ৭টায় সমস্ত জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (DEO) নিয়ে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকও হওয়ার কথা রয়েছে।
রাজনৈতিক অস্তিত্ব ফিরে পাওয়ার লড়াই: নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের পথে কমিশন?
ফরাক্কা কাণ্ডের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে আরও একটি বিষয়। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে নথিপত্র সংক্রান্ত ত্রুটির কারণে স্বীকৃতি বাতিল হওয়া ৪টি রাজনৈতিক দল ফের ময়দানে নামার আবেদন জানিয়েছে। দলগুলি হলো:
-
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য মুসলিম লিগ
-
জিএনএলএফ (GNLF)
-
ম্যায় হি ভারত
-
কামতাপুর প্রোগ্রেসিভ পার্টি
ইতিমধ্যেই মুসলিম লিগ, ম্যায় হি ভারত এবং কামতাপুর প্রোগ্রেসিভ পার্টি কমিশনের শুনানিতে হাজিরা দিয়ে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছে। আগামী ২৭ জানুয়ারি গোর্খা ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্টকে (GNLF) তলব করা হয়েছে। কমিশনের আইন অনুযায়ী, একবার স্বীকৃতি বাতিল হলে তা ফিরে পাওয়ার নজির নেই বললেই চলে। যদি এই দলগুলো পুনরায় স্বীকৃতি পায়, তবে তা বাংলার রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ইতিহাস তৈরি করবে এবং আগামী নির্বাচনে লড়াইয়ের পথ প্রশস্ত হবে।