ভোটের মুখে ‘গৃহযুদ্ধের’ উস্কানি? হিমন্তের ‘গুলি’ মন্তব্যে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি, পালটা তোপ তৃণমূলের

প্রথম দফার ভোটের আগে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক পারদ এবার সপ্তমে চড়ালেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। সোমবার জলপাইগুড়ির জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ ও প্রশাসনকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ করলেন তিনি। প্রতিবেশী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর মুখে সরাসরি ‘গুলির বদলে গুলি’র হুঁশিয়ারিতে রীতিমতো স্তম্ভিত রাজনৈতিক মহল।

হিমন্তের হুঁশিয়ারি ও চ্যালেঞ্জ: গত কয়েকদিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার যে ইঙ্গিত তৃণমূল দিচ্ছে, তার প্রেক্ষিতেই এ দিন রণংদেহি মেজাজে ধরা দেন হিমন্ত। তিনি বলেন:

  • পালটা হামলা: “মনে রাখবেন, আপনাদের পুলিশ থাকলে আমারও পুলিশ আছে। একটা গুলি চালালে, আমরা দুটো চালাব।”

  • মমতাকে কটাক্ষ: হিমন্তের দাবি, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে রাম বা দুর্গার নাম শোনা যায় না, তিনি সারাদিন মোদী-শাহর জপ করেন।”

  • হুমকি: তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশ্যে তাঁর চ্যালেঞ্জ, “তৃণমূলীরা আমার সামনে দাঁড়ানোর সাহস পাবে না। এবার টক্কর হবে সমানে সমানে।”

তৃণমূলের ‘গৃহযুদ্ধ’ অভিযোগ: হিমন্তের এই চরমপন্থী মন্তব্যের পর চুপ করে থাকেনি তৃণমূল কংগ্রেস। দলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়ে বলেন, “হিমন্ত বিশ্বশর্মা কার্যত গৃহযুদ্ধের ডাক দিচ্ছেন। একজন মুখ্যমন্ত্রী হয়ে প্রকাশ্য জনসভায় বন্দুকের ভাষায় কথা বলা দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।” এই প্ররোচনামূলক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ঘাসফুল শিবির।

সংঘাতের পথে উত্তরবঙ্গ? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইস্যুভিত্তিক প্রচার ছেড়ে যেভাবে ‘রক্তক্ষয়ী’ হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে, তাতে নির্বাচনের দিনগুলোতে উত্তরবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। হিমন্তের এই ‘রণহুঙ্কার’ বিজেপির পালে হাওয়া কাড়বে নাকি তৃণমূলের মেরুকরণকে সাহায্য করবে, তা ইভিএম-ই বলবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy