ভোটের মুখে কলকাতায় টাকার পাহাড়! একাধিক গাড়ি থেকে উদ্ধার লক্ষ লক্ষ টাকা, আয়কর দফতরের বড় সাফল্য

নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশের পর শহরজুড়ে নাকা তল্লাশি শুরু হতেই সাফল্য পেল পুলিশ ও আয়কর দফতর। মঙ্গলবার উত্তর ও মধ্য কলকাতার দুই গুরুত্বপূর্ণ এলাকা থেকে উদ্ধার করা হলো প্রায় ৩৭ লক্ষ টাকা। ভোটের আগে এই বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা কার কাছে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং এর উৎস কী, তা নিয়ে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।
শ্যামপুকুরে ১৭ লক্ষ টাকা উদ্ধার: মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুর থানা এলাকায় একটি বিলাসবহুল গাড়ি আটকে তল্লাশি চালায় পুলিশ। গাড়ির গোপন চেম্বার থেকে উদ্ধার হয় প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা। পুলিশ সূত্রে খবর, গাড়ির চালক বা আরোহী কেউই এই টাকার সপক্ষে কোনো বৈধ নথি দেখাতে পারেননি। সন্দেহ করা হচ্ছে, নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহারের জন্যই এই টাকা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
নিউ মার্কেটে ২০ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত: অন্যদিকে, মধ্য কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় নাকা তল্লাশির সময় আয়কর দফতর এবং পুলিশের যৌথ অভিযানে উদ্ধার হয় আরও ২০ লক্ষ টাকা। সন্দেহভাজন একটি গাড়ি থেকে এই নগদ টাকা পাওয়া যায়। আয়কর দফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এত বিপুল পরিমাণ টাকা শহরের ব্যস্ততম এলাকায় কেন নিয়ে আসা হচ্ছিল, তার কোনো সদুত্তর মেলেনি।
কমিশনের কড়া নজরদারি: ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পর থেকেই কলকাতা-সহ রাজ্যের সর্বত্র ফ্লাইং স্কোয়াড এবং স্ট্যাটিক সার্ভেল্যান্স টিম সক্রিয় রয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচনের আগে ভোটারদের প্রভাবিত করতে টাকার লেনদেন রুখতেই এই নাকা তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে।
একনজরে আজকের অভিযান:
উদ্ধার হওয়া মোট টাকা: প্রায় ৩৭ লক্ষ।
এলাকা: শ্যামপুকুর ও নিউ মার্কেট।
তদন্তকারী সংস্থা: কলকাতা পুলিশ ও আয়কর দফতর (Income Tax Department)।
বর্তমান অবস্থা: আটক করা ব্যক্তিদের জেরা করা হচ্ছে এবং টাকার উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শহরে এই বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধারের পর থেকে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে কাদা ছোড়াছুড়ি। বিরোধীদের দাবি, শাসকদল ভোটের আগে কালো টাকা ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে শাসকদলের দাবি, আইন আইনের পথে চলছে।