২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে খাস কলকাতায় বড়সড় অস্ত্র পাচার চক্রের হদিশ পেল লালবাজার। স্ট্র্যান্ড রোডের একটি সুলভ শৌচালয়ে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করল কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (STF)। এই ঘটনায় বিহারের এক বাসিন্দাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছেন গোয়েন্দারা। ভোটের মুখে শহরের প্রাণকেন্দ্রে এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
শৌচালয়েই কি চলত অস্ত্র লেনদেন?
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বুধবার সন্ধ্যায় স্ট্র্যান্ড রোড এলাকায় জাল পেতেছিলেন এসটিএফ-এর আধিকারিকরা। একটি সুলভ শৌচালয়ের ভেতরে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির গতিবিধি দেখে তাকে আটক করা হয়। তল্লাশি চালাতেই তার ব্যাগ থেকে বেরিয়ে আসে প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ। জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম মহম্মদ ইউসুফ। সে বিহারের নালন্দার বাসিন্দা।
ভোটের কলকাতায় নাশকতার ছক?
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, বিহার থেকে এই অস্ত্র কলকাতায় আনা হয়েছিল বড় কোনো রাজনৈতিক অস্থিরতা বা নাশকতার উদ্দেশ্যে। শৌচালয়কে ‘সেফ হাউস’ হিসেবে ব্যবহার করে সেখান থেকেই অস্ত্রগুলো শহরের অন্য প্রান্তের দুষ্কৃতীদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল ইউসুফের।
উদ্ধার: একাধিক পিস্তল ও বেশ কিছু রাউন্ড তাজা কার্তুজ।
তদন্তের গতিপথ: এই চক্রের সঙ্গে কলকাতার কোনো স্থানীয় গ্যাং বা কোনো রাজনৈতিক যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারির মধ্যেই কীভাবে বিহার থেকে অস্ত্র নিয়ে এক যুবক কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে ঢুকে পড়ল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্ট্র্যান্ড রোডের মতো ব্যস্ত এলাকায় পুলিশের নজর এড়িয়ে শৌচালয়কে ডেরা বানানোয় অবাক নিরাপত্তা আধিকারিকরাও।
ধৃত মহম্মদ ইউসুফকে জেরা করে এই চক্রের মূল পান্ডাদের হদিশ পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে এসটিএফ। ভোটের ঠিক আগে এই অস্ত্র উদ্ধার কি কোনো বড় অঘটনের ইঙ্গিত? উত্তরের সন্ধানে তদন্ত জারি রেখেছে পুলিশ।





