২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ঠিক পরেই অ্যাকশন মুডে নির্বাচন কমিশন (ECI)। রাজ্যের হাই-ভোল্টেজ জেলা হিসেবে পরিচিত পূর্ব মেদিনীপুরে পুলিশের বড়সড় রদবদল করল কমিশন। বিশেষ সূত্রের খবর অনুযায়ী, হলদিয়া এবং কাঁথি (Contai)— এই দুই অত্যন্ত সংবেদনশীল মহকুমার মহকুমা পুলিশ আধিকারিকদের (SDPO) তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কেন এই কড়া পদক্ষেপ? নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, অবাধ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাধারণত কোনো পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষতা নিয়ে অভিযোগ উঠলে বা নির্বাচনের কাজে গাফিলতি দেখা দিলে কমিশন এই ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করে। কাঁথি এবং হলদিয়া যেহেতু রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর গড় হিসেবে পরিচিত, তাই সেখানে রদবদলের বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
রদবদলের খুঁটিনাটি:
অপসারিত আধিকারিক: হলদিয়া এবং কাঁথির দুই বর্তমান এসডিপিও-কে তাঁদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে আপাতত সদর দপ্তরে রাখা হয়েছে।
নতুন নিয়োগ: খুব শীঘ্রই ওই দুই পদে নতুন ও দক্ষ আধিকারিকদের নাম ঘোষণা করবে কমিশন।
কড়া নজরদারি: শুধু পূর্ব মেদিনীপুর নয়, রাজ্যের আরও বেশ কিছু জেলার পুলিশ ও প্রশাসনিক স্তরে এমন পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর: কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপি-র দাবি, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য এই রদবদল জরুরি ছিল। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
উপসংহার: নির্বাচন শুরু হওয়ার আগেই কমিশনের এই ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’ এবং ‘বড় রদবদল’ স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, এবার এক ইঞ্চি জমিও ছাড়বে না কমিশন। পূর্ব মেদিনীপুরে এই পুলিশি রদবদল ভোটের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।





