২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই অভিনবত্ব বাড়ছে রাজনৈতিক প্রচারের কৌশলে। কেবল দেওয়াল লিখন বা মাইক প্রচার নয়, সাধারণ মানুষের হৃদয়ে পৌঁছাতে এবার সরাসরি তাঁদের রান্নাঘর বা চায়ের দোকানে হানা দিচ্ছেন তৃণমূলের প্রার্থীরা। সোমবার উত্তর থেকে দক্ষিণ— সর্বত্রই দেখা গেল একই চিত্র। কোথাও প্রার্থীকে দেখা গেল চপ ভাজতে, আবার কোথাও তিনি ব্যস্ত স্থানীয়দের সঙ্গে আটা মেখে রুটি বেলতে।
বিশেষ করে উত্তর কলকাতার একাধিক আসনে প্রার্থীদের দেখা গিয়েছে স্থানীয় রাস্তার ধারের দোকানে গিয়ে রীতিমতো পেশাদারদের মতো বেগুনি ও চপ ভাজতে। প্রার্থীরা বলছেন, “সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের লড়াইয়ের সঙ্গে মিশে যেতেই এই প্রয়াস। চপ শিল্প এখন বাংলার গর্ব, তাই মানুষের সঙ্গে একাত্ম হতে এর চেয়ে ভালো মাধ্যম আর কী হতে পারে!” অন্যদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক প্রার্থীর রুটি বেলার ভিডিও ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল। সেখানে তাঁকে দেখা যাচ্ছে গরিব ঘরের দাওয়ায় বসে গৃহিণীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে গোল গোল রুটি তৈরি করতে।
বিরোধীরা অবশ্য এই ‘হেঁশেল রাজনীতি’কে কটাক্ষ করতে ছাড়ছেন না। বিজেপির দাবি, গত ১৫ বছর উন্নয়নের কাজ না হওয়ায় এখন নাটক করে মানুষের মন জেতার চেষ্টা চলছে। তবে তৃণমূল শিবিরের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেখানো পথেই তাঁরা চলছেন। তৃণমূল নেত্রী নিজেও বিভিন্ন সময় পাহাড়ে গিয়ে মোমো তৈরি করে বা চা বানিয়ে জনসংযোগ করেছেন। সেই একই ঘরানাকে হাতিয়ার করেই এবার ‘মিশন ২০২৬’ সফল করতে মরিয়া জোড়াফুল শিবির।