২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে উন্নয়ন, দুর্নীতি আর কর্মসংস্থান ছাপিয়ে এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এল বাঙালির প্রিয় ‘মাছ’। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বনাম মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাকযুদ্ধে এবার সরাসরি ঢুকে পড়ল বাঙালির চিরাচরিত খাদ্যতালিকা। মাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে একে অপরকে যে ভাষায় আক্রমণ শানালেন দুই শীর্ষ নেতা, তাতে রাজনৈতিক মহলের রসিকতা— এবারের লড়াইটা বুঝি ‘ভাতের পাতেই’ শুরু হয়ে গেল!
মোদির আক্রমণ ও ‘মুঘল’ মানসিকতা: সাম্প্রতিক জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তৃণমূল ও বিরোধী শিবিরের নেতাদের নাম না করে তীব্র কটাক্ষ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু মানুষ পবিত্র সময়ে বা উৎসবের দিনগুলিতে মাছ ও আমিষ খেয়ে অন্যদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেন। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “ভিডিও করে মাছ খাওয়া দেখানো আসলে মুঘল মানসিকতার পরিচয়। তাঁরা কেবল ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করতেই এমনটা করেন।” মোদির এই মন্তব্য মূলত বাঙালির খাদ্যাভ্যাস বনাম ধর্মীয় ভাবাবেগের এক নতুন মেরুকরণের চেষ্টা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
গর্জালেন মমতা, দিলেন ‘মিথ্যাবাদী’ তোপ: প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পালটা দিতে দেরি করেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দক্ষিণবঙ্গের সভা থেকে তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে বলেন, “উনি ডাহা মিথ্যে কথা বলছেন। মাছ খাওয়া বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতি। মোদিবাবু কি এখন আমাদের রান্নাঘরে ঢুকে ঠিক করে দেবেন আমরা কী খাব আর কী খাব না?” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলার মানুষের মাছ, মাংস আর ডিম খাওয়া বন্ধ করে দেবে। এরা বাংলার সংস্কৃতি জানে না, কেবল বিভাজনের রাজনীতি বোঝে।”
বিজেপির পালটা প্রচার: এদিকে মাছ নিয়ে মমতার এই ‘প্রচার’ রুখতে ময়দানে নেমেছেন রাজ্য বিজেপির নেতারাও। বিধাননগরের বিজেপি প্রার্থী শরৎচন্দ্র মুখোপাধ্যায় থেকে শুরু করে শমীক ভট্টাচার্য— অনেককেই দেখা গিয়েছে হাতে বড় মাছ নিয়ে প্রচার করতে। তাঁদের দাবি, বিজেপি কখনওই খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ করবে না, উল্টো তৃণমূলই অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে বাঙালির পাত থেকে মাছ কেড়ে নিয়েছে।
ভোটের পাতে রাজনীতির ফোড়ন: বিশ্লেষকদের মতে, মোদি যখন ‘ধর্মীয় ভাবাবেগ’কে উসকে দিতে চাইছেন, মমতা তখন ‘বাঙালি অস্মিতা’ ও ‘খাদ্যের অধিকার’কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন। ২০২৬-এর এই মহারণে ইস্যু অনেক থাকলেও, ‘মাছ’ যে সাধারণ মানুষের ড্রয়িংরুম থেকে চায়ের দোকান পর্যন্ত আলোচনার প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে, তা বলাই বাহুল্য।
বাংলার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই এবার কি মাছের কাঁটায় আটকে যাবে? উত্তর দেবে মে মাসের নির্বাচনী ফলাফল।





