নির্বাচনের ময়দানে প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান। যখন এক এক জন প্রার্থী এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ, ঠিক তখনই নদিয়ার কল্যাণী (তপশিলি জাতি সংরক্ষিত) কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী ডা. অতীন্দ্রনাথ মণ্ডল দেখালেন এক অনন্য নজির। রবিবার দুপুরে যখন তাঁর প্রচার তুঙ্গে, ঠিক তখনই তাঁর কাছে খবর আসে যে কল্যাণী জওহরলাল নেহেরু মেমোরিয়াল (JNM) হাসপাতালে ভর্তি এক প্রসূতির জন্য জরুরি ভিত্তিতে ‘O’ নেগেটিভ রক্তের প্রয়োজন। দুষ্প্রাপ্য এই রক্ত না মেলায় পরিবারের লোকজন যখন দিশেহারা, ঠিক তখনই প্রচার ফেলে রক্তদান করতে ছুটলেন এই ‘বিনা পয়সার চিকিৎসক’ হিসেবে পরিচিত প্রার্থী।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই প্রসূতির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ছিল। তাঁর রক্তের গ্রুপ ‘O’ নেগেটিভ হওয়ায় কোনো ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকেই তৎক্ষণাৎ রক্ত পাওয়া যাচ্ছিল না। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর ছড়িয়ে পড়লে অতীন্দ্রনাথবাবুর এক কর্মীর নজরে আসে বিষয়টি। তিনি প্রার্থীকে জানানো মাত্রই অতীন্দ্রনাথবাবু সমস্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। সহকর্মীদের অবাক করে দিয়ে তিনি বলেন, “ভোটের প্রচার কালও হবে, কিন্তু এই প্রাণটা চলে গেলে আর ফিরবে না।”
ডাক্তারবাবু যখন রক্তদাতা: অতীন্দ্রনাথ মণ্ডল পেশায় একজন চিকিৎসক। কল্যাণীতে তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বিনামূল্যে রোগীদের পরিষেবা দিয়ে আসছেন। এদিন হাসপাতালে পৌঁছে তিনি নিজেই রক্তদান করেন। তাঁর এই পদক্ষেপের পর রোগীর পরিবার এবং উপস্থিত সাধারণ মানুষ তাঁকে ধন্যবাদে ভরিয়ে দেন। অতীন্দ্রনাথবাবুর কথায়, “আমি আগে একজন চিকিৎসক ও মানুষ, তারপর রাজনৈতিক নেতা। মানুষের সেবা করার জন্যই তো রাজনীতিতে আসা। আজ সুযোগ পেয়ে ভালো লাগছে।”
জনসংযোগের নয়া মাত্রা: বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে কেউ কেউ ‘পাবলিসিটি স্টান্ট’ বললেও, কল্যাণীর সাধারণ ভোটারদের মধ্যে অতীন্দ্রনাথবাবুর জনপ্রিয়তা এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। প্রচারের রঙিন ছবির ভিড়ে এই মানবিক ছবি ২০২৬-এর নির্বাচনে একটি বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, কাজের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই বার্তা কল্যাণীর ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছে।