নির্বাচনী ডিউটিতে এসে কড়া অনুশাসন ভেঙে বিপাকে পড়লেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাত জওয়ান। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করানোর গুরুদায়িত্ব কাঁধে নিয়ে এলাকায় এসে শেষমেশ ‘নিমন্ত্রণ রক্ষা’ করতে যাওয়াই কাল হলো তাঁদের। কর্তব্যে গাফিলতি এবং নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে ওই সাত জওয়ানকে কঠোর শাস্তি দিল নির্বাচন কমিশন। এমনকি পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে, তাঁদের মধ্যে দুই জওয়ানকে ইতিমধ্যেই হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে খবর।
ঘটনাটি ঘটেছে ভোটের ডিউটি চলাকালীন একটি স্পর্শকাতর এলাকায়। জানা গিয়েছে, টহলদারি বা নির্দিষ্ট ডিউটি পয়েন্টে থাকার বদলে ওই জওয়ানরা স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়িতে আমন্ত্রিত হয়ে খাওয়া-দাওয়া করতে গিয়েছিলেন। নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশিকা থাকে যে, ডিউটি চলাকালীন কোনও জওয়ান স্থানীয় কোনও ব্যক্তির আতিথেয়তা গ্রহণ করতে পারবেন না বা ব্যক্তিগত মেলামেশায় জড়াতে পারবেন না। এতে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু সেই নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ভোজ খেতে যাওয়ায় কমিশনের নজরদারি টিমের হাতে ধরা পড়ে যান তাঁরা।
কমিশন এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। অভিযুক্ত সাত জওয়ানকেই তৎক্ষণাৎ নির্বাচনী ডিউটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। বাহিনীর শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং ভোটারদের মনে সংশয় তৈরি করার অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যে দুই জওয়ানকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে দেখা হচ্ছে এর পেছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য বা প্রভাব খাটানোর বিষয় ছিল কি না। ভোটের মুখে এই ঘটনায় প্রশাসনিক মহলে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে।